ইউপি ইস্যুর ক্ষমতা পাচ্ছে প্লাস্টিক ও গার্মেন্টস এক্সেসরিজের সংগঠন
প্রকাশ : ২১ মে ২০১৪, ২০:৫৭
রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতা (ইউটিলাইজেশন পারমিশন-ইউপি) অনুমোদনের ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিপিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)। দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অবশেষে নিজের ক্ষমতা এ দুটি সংগঠনের হাতে ছেড়ে দিতে যাচ্ছে। তবে এ জন্য বেশকিছু শর্ত মানতে হবে তাদেরকে। এ সম্পর্কিত একটি সার সংক্ষেপ অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেলে শিগগিরই আদেশ জারি করা হবে বলে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রপ্তানিমুখী শিল্প বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পেয়ে থাকে। কী পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করা হবে তার একটি হিসাব দিয়ে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করা হয়। এসব কাঁচামাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজে (সরকার নির্ধারিত গুদাম) রাখা হয়। এ ধরনের কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতা এতদিন এনবিআর ইস্যু করত। কিন্তু এতে প্রক্রিয়াগত কারণে দীর্ঘ সময় ও ঝামেলা পোহাতে হয় দাবি করে এসব খাতের উদ্যোক্তারা তাদের স্ব স্ব সংগঠনের হাতে ইউপি ইস্যুর ক্ষমতা দেয়ার দাবি করে আসছিল বিগত তিন বছর থেকে। অবশ্য পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র হাতে দীর্ঘদিন থেকেই ইউপি ইস্যুর ক্ষমতা দেয়া আছে। বিজিএমইএ তাদের সদস্যভুক্ত কারখানার কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নিজেরাই ইউপি ইস্যু করে থাকে।
তবে ইউপি ইস্যু করার ক্ষমতা এসব সংগঠনকে দেয়ায় অনিয়ম বাড়বে বলে মনে করেন এনবিআরের শুল্ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, এসব সংগঠনের হাতে ইউপি ইস্যুর ক্ষমতা দেয়ার ফলে এসব খাতের কাঁচামাল আমদানিতে স্বচ্ছতা থাকবে না।
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এনবিআরের কাছ থেকে ইউপি সনদ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এটি তাদের স্বাভাবিক আমদানি রপ্তানি কার্যক্রমকে ব্যহত করে। তাদের সংগঠনের হাতে এই ক্ষমতা থাকলে ইউপি সনদ পেতে জটিলতা কাটবে। প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিপিজিএমইএ’র সভাপতি জসিম উদ্দিন এ বিষয়ে ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের সংগঠনের কাছে এ ক্ষমতা আসলে বরং অস্বচ্ছতা কমবে। এখানে ঘুষ দেয়ার কোন সুযোগ থাকবে না। কারণ ইউপি’র পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ইউপি ইস্যুর ক্ষমতা দেয়ার পাশাপাশি বেশকিছু কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি বলেন, খুবই কঠিন শর্ত দেয়া হয়েছে। একটি শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কেউ চাইলে বন্ড কমিশনারেট থেকেও ইউপি নিতে পারবে। এটিকে বিপরীতমুখী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনের কাছে ক্ষমতা দিয়ে আবার তাদের কাছেও রেখে দিয়েছেন।
ইউপি’র মাধ্যমে রপ্তানির বিপরীতে চাহিদার তুলনায় বেশি প্রাপ্যতা দেখিয়ে কাঁচামাল আমদানি করে তা বাইরে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে সরকার প্রাপ্য শুল্ক-কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসায়ীদের দাবি থাকলেও তাদের হাতে ইউপি ইস্যুর ক্ষমতা না দেয়ার বিষয়ে এনবিআর কঠোর ছিল। তবে এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন তার দায়িত্বের শুরু থেকেই এসব সংগঠনের হাতে ইউপি ইস্যুর ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পক্ষপাতী ছিলেন বলে সূত্র জানায়।