নাইজেরিয়ায় জোড়া বোমা বিস্ফোরণে নিহত শতাধিক
আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স
প্রকাশ : ২১ মে ২০১৪, ২২:০৩
নাইজেরিয়ার জোসে শহরে জোড়া বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১১৮ জন নিহত হয়েছে। ঐ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো অর্ধশতাধিক মানুষ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। এ হামলার নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন।
প্লাটু স্টেটের পুলিশ কমিশনার ক্রিস ওলাকপে বলেন, বিকাল তিনটার দিকে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় মানুষ জড়ো হলে সাড়ে তিনটার দিকে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে গেছে, আশপাশের ঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে।
জোসের জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা সংস্থার সমন্বয়ক মোহাম্মেদ আব্দুল সালাম বলেন, ‘বিস্ফোরণে নিহত ১১৮ জনের লাশ আমরা উদ্ধার করেছি। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, সব ধ্বংসস্তূপ এখনও সরানো হয়নি।’ মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও ৫৬ জন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর জোসের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তারমিনাসের একটি হাসপাতালের সামনে বিস্ফোরণস্থলে ১০টি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন রয়টার্সের এক প্রতিবেদক। ওই এলাকার বাসিন্দা ভেরোনিকা স্যামসন বলেন, বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে আমার পুরো বাড়ি কেপে ওঠে। এরপর ধোঁয়া উড়তে থাকে। ‘রাস্তার উপর অনেকের লাশ পড়েছিল এবং মানুষজন নিজেদের গাড়িতে করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল।’ আঞ্চলিক গভর্নরের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে হতাহতদের অধিকাংশই নারী।
তাত্ক্ষণিকভাবে কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে এটা জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারামের কাজ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চল জুড়ে ধারাবাহিকভাবে বোমা হামলা চালিয়ে আসছে এই গোষ্ঠী। গত ১৪ এপ্রিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চিবোক গ্রাম থেকে তিন শতাধিক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে নতুন করে আলোচনায় আসে বোকো হারাম। অপহূত ছাত্রীদের উদ্ধারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স।