এনজিওর ঋণ ও মহাজনের সুদের ভারে জর্জরিত কমলগঞ্জের বাঙালি তাঁতীরা

এনজিও’র ঋণ ও মহাজনের সুদের ভারে জর্জরিত কমলগঞ্জের মণিপুরী বাঙালি তাঁতীরা। কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুবিল গ্রামের লুবনা বেগম, রীমা বেগম, ফাতেমা বেগমসহ হাজারো নারী নিজেদের চেষ্টায় তাঁত শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছেন। নেই প্রয়োজনীয় মূলধন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, উত্পাদন পদ্ধতিতে নেই আধুনিক ছোঁয়া, নেই যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, বাজারজাতকরণে নানা প্রতিকূলতা। মণিপুরী নারীরা একাধিকবার ব্যাংক ঋণের সুবিধা পেলেও পাশাপাশি বসবাসকারী বাঙালি নারীরা পাচ্ছেন না কোনো ধরনের ব্যাংক ঋণ সুবিধা। এনজিও ও মহাজনদের সুদ দিয়ে কোনোমতে টিকে আছেন বাঙালি তাঁতীরা। আদমপুর ইউনিয়নের শনটিলা, গদাপীর টিলা, উত্তর টিলা, শনগাঁও, পশ্চিম ভানুবিল, জালালপুর, নইনারপার, কোনাগাঁও, মধ্যবাঘ, ঘোড়ামারা, আলীনগর ইউনিয়নের চিতলীয়া, জাঙ্গালিয়া, মঙ্গলপুর, ইসলামপুর ইউনিয়নের গুলেরহাওর, কানাইদাশিসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজারো বাঙালি নারীরা তাঁত পেশায় বস্ত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপস্থিতিতে কয়েক দফা মণিপুরীরা ব্যাংক ঋণ সুবিধা পেয়ে ভানুগাছ বাজারে ‘মণিপুরী এক্সক্লুসিভ বাজার’ প্রতিষ্ঠা করেন। মণিপুরীরা ঋণ সুবিধা ভোগ করলেও বাঙালি নারী তাঁতীরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বাঙালি তাঁতীদের ঋণ সুবিধার দাবিতে আন্দোলনকারী আহমদ সিরাজ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কমলগঞ্জে মণিপুরী মহিলা তাঁত উদ্যোক্তাদের মাঝে ক্লাস্টার প্রোগ্রামের আওতায় কোটি টাকার উপরে এসএমই ঋণ বিতরণ করেন। কিন্তু দরিদ্র বাঙালি নারী তাঁত উদ্যোক্তারা পাচ্ছেন না কোনো ব্যাংক ঋণ সুবিধা।