সবুজ প্রকৃতি গড়ার কারিগর

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীসূর্য্য নোয়াগাও গ্রামের কোণে রয়েছে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের নার্সারি ‘শাহপরান’। সবুজ প্রকৃতির এই ভাণ্ডারটি গড়ে তুলেছেন ঐ গ্রামের উদ্যমী পুরুষ হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। হুমায়ুন জানালেন, দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত্ নার্সারির আয় দিয়েই চলছে তার সংসার। শুরুতে অল্প চারা উত্পাদন করলেও ধীরে ধীরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নার্সারির আয়তন বৃদ্ধি পায়। প্রথমদিকে আকাশি, ম্যানজিয়ামসহ বিদেশি জাতের দ্রুত বর্ধনশীল চারার চাহিদা ছিল বেশি। কিন্তু বিদেশি প্রজাতির এসব গাছের চারা এদেশের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর- এ বিষয়টি ক্রমশ বোঝা গেলে মানুষের মধ্যে দেশীয় প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি জাতীয় গাছের চারার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে এখন দেশীয় জাতের এসব গাছের চারা চাষ লাভজনক হয়ে উঠেছে। জানা যায়, ওই গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে নার্সারি গড়ে উঠলেও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তা টিকিয়ে রাখতে পারেননি অনেকেই। পরিশ্রমী যুবক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। কঠোর পরিশ্রম আর নার্সারির সঠিক পরিচর্যার মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে সাফল্য লাভ করেন। অল্প কিছু জমিতে নার্সারি শুরু করলেও তার পরিসর বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ৩ একরে দাঁড়িয়েছে। হুমায়ুনের নার্সারিতে বর্তমানে ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তিনি জানান, এ বছর ঔষধি জাতের গাছ আগর, অর্জুন, নিম, বনজ প্রজাতির জারুল, হিজল ক্রস এবং ফলদ প্রজাতির বুম্বাই লিচু, চায়না-৩ লিচু, বেদানা, কালোজাম, লটকন, পেয়ারা, কাঁঠাল, পেঁপে, কাগজি লেবু, জলপাই, দেশি আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের কয়েক লাখ চারা উত্পাদন করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় এখন চারা বিক্রির উপযুক্ত সময়। বছরে সকল খরচাদি শেষে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় হয় বলে জানালেন ওই নার্সারি মালিক। হুমায়ুন কবির বলেন, পুঁজির অভাবে স্থানীয় কৃষিব্যাংক থেকে মাঝে মাঝে ঋণ নিয়ে এই নার্সারি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে সরকারের তরফ থেকে আরও কিছু সহযোগিতা পাওয়া গেলে নার্সারির আরো উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। তিনি নার্সারিতে সাফল্য লাভ করায় ফরেস্ট্রি সেক্টর থেকে চারা উত্পাদনের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট পেয়েছেন। কৃষি ইন্সটিটিউট ময়মনসিংহ থেকে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন হুমায়ুন। গত কয়েক বছর যাবত্ ইউক্যালিপটাস, আকাশি, ম্যানজিয়ামসহ দ্রুত বর্ধনশীল বিদেশি গাছ-গাছালি দিয়ে কৃত্রিম বন তৈরির হিড়িক শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় প্রকৃতি ও পরিবেশের কথা চিন্তা করে মানুষ এখন সচেতন হয়ে উঠছে। তাই কয়েক বছর আগেও যেখানে আকাশি গাছের চারার প্রচুর চাহিদা ছিল এখন সেখানে আগর, লেবুসহ দেশীয় প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারার চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসব নার্সারি কেবল অর্থনীতিতেই অবদান রাখছে না, অক্সিজেন তৈরির ভাণ্ডার হিসাবেও কাজ করছে। রাজকান্দি বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বললেন, মানুষ এখন দেশীয় গাছ-গাছালি রোপণে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এটি অবশ্যই প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।