কর্পোরেট শিল্পে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র
প্রকাশ : ২১ মে ২০১৪, ২৩:১৫
কর্পোরেট স্পন্সর থেকে সিনেমার লগ্নি তোলার জন্য এখন অধিকাংশ প্রযোজক পরিচালক নতুন পন্থায় এগুচ্ছেন। এর নিরীক্ষামূলক প্রয়োগ এবারের ঈদ থেকেই শুরু হচ্ছে। এবারের ঈদে মুক্তি পাচ্ছে এমন দুই চলচ্চিত্রের প্রযোজক নায়ক একই ব্যক্তি।
চলচ্চিত্রের বর্তমান সুপারস্টার শাকিব খানের প্রযোজনায় ঈদে আসছে ‘হিরো - দ্যা সুপার স্টার’ ছবিটি। এই ছবির মূল চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন তিনি। শাকিবের বিপরীতে রয়েছেন অপু বিশ্বাস।
অন্যদিকে অনন্ত জলিলের প্রযোজনা ও পরিচালনায় ঈদে আসছে তার সিক্যুয়েল চলচ্চিত্র ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’। এতে অনন্ত-বর্ষা জুটি অভিনয় করেছেন। বড় বাজেটের এই দুই চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজকদ্বয় ছবি মুক্তির আগেই কর্পোরেট স্পন্সর থেকে লগ্নির অনেকাংশ তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। শাকিব খান চুক্তি করেছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাথে। তাই ছবি মুক্তির আগেই অর্ধেক লগ্নি উঠিয়ে ফেলেছেন। এর ভেতরে একটি কোমল পানীয়ের প্রতিষ্ঠান ছবিটির টাইটেল স্পন্সর হিসেবে থাকবে। প্রযোজক শাকিব খানের হিসেব মতে, তার চলচ্চিত্রের বাজেট ৫ কোটি টাকার ওপরে। অন্যদিকে অনন্ত জলিল পরিচালিত ও প্রযোজিত ছবি ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’ ছবিটির বাজেট ১২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। আর সেক্ষেত্রে প্রযোজক দেশের সর্ববৃহত্ টেলিকম স্পন্সর নিয়ে প্রায় এক তৃতীয়াংশ উঠিয়ে নিয়েছেন। চলচ্চিত্রের এই কর্পোরেট স্পন্সর এবারের ঈদেই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘এখন এ ছাড়া আমাদের উপায় নেই। শুধু হলগুলোর ওপর নির্ভর করলে ছবি ৬০ থেকে ৭০ লাখে শেষ করতে হবে। এত অল্প বাজেটে ভাল ছবি নির্মাণ সম্ভব নয়। একারণেই ছবির মান উন্নয়নে আমাদের পাশে একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে পাশে চাই। তবেই চলচ্চিত্রের উন্নতি হবে।’
অনন্ত জলিল বলেন, ‘আমাদের স্বপ্নকে আরো বাড়াতে হবে। ৪ বছর আগে আমি যখন বড় বাজেটের ঝুঁকি নিয়ে ছবি তৈরি করেছিলাম তখন অনেকেই হাসাহাসি করেছিল। আজ তারাই আমার মডেলটিকে অনুকরণ করছে। আমাদের চলচ্চিত্র মালয়েশিয়া, দুবাই থেকে শুরু করে বহির্বিশ্বে মুক্তি না দিলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন সম্ভব হবে না। এ কারণেই আমরা নতুন উদ্যোগে, নতুন আইডিয়ায় কাজ শুরু করেছি। বিশ্বে যে পরিমাণ বাঙালি রয়েছে তাদের কাছে আমাদের আইনসিদ্ধভাবে চলচ্চিত্র পৌঁছে দিলেই আমরা ১০০ কোটির চলচ্চিত্র অনায়াসেই তৈরি করতে পারবো। আমি চলচ্চিত্রকে এক্সপোর্ট করতে চাই।’
কর্পোরেট শিল্পে আমাদের চলচ্চিত্রের এই প্রবেশের ক্ষেত্রে তাই এখন অন্যরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। এরই ভেতরে তরুণ নির্মাতা স্বপন আহমেদ, রেদওয়ান রনি, শাহীন কবির টুটুল, মোস্তফা কামাল রাজ চলচ্চিত্রের কর্পোরেট স্পন্সর নিয়ে বাজেট বাড়াচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতার সফল পদযাত্রা চলতে থাকলে আমাদের চলচ্চিত্রে শতকোটি বাজেটের ঘরে প্রবেশ করতে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না।
কর্পোরেট শিল্পে আমাদের চলচ্চিত্রের এই পদযাত্রায় কিছু নিয়ম মেনে ছবির সিকোয়েন্স তৈরি হচ্ছে। যেমন শাকিব খানের চলচ্চিত্রে স্পন্সর পানীয় খেতে দেখা যাবে ছবির পাত্র-পাত্রীকে। একইভাবে অনন্ত জলিলের চলচ্চিত্রে সেলফোন হিসেবে স্পন্সর ব্র্যান্ডকেই উপস্থাপন করা হবে।