থাইল্যাণ্ডে রাজনীতিকদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠক
প্রকাশ : ২১ মে ২০১৪, ২৩:১৯
থাইল্যান্ডে সামরিক শাসন জারির পর দেশটির রাজনৈতক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন থাইল্যান্ডের সেনাপ্রধান। কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে রাত ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠকের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে মন্ত্রিসভা সদরদপ্তরের পরিবর্তে গোপন ও নিরাপদ স্থান থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী দেশটিতে সামরিক আইন জারির একদিন পর বুধবার এক সরকারি কর্মকর্তা একথা জানান। খবর বিবিসি ও এএফপি’র।
জেনারেল প্রায়ুথ চ্যান-ও-চা ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশন, সিনেট এবং সরকারপন্থী ও সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শিবিরের প্রধানদের বৈঠক করেন। নির্বাচন কমিশনের মহাসচিব বলেন, সেনাপ্রধান আমাদের বাড়িতে গিয়ে সমাধানের জন্য চিন্ত করতে বলেছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিবের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে সদরদপ্তর বিক্ষোভকারীরা ঘেরাও করে রাখার পরও সরকার যেখানে বৈঠক করে আসছিলো এখন সেগুলো আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, সরকার এখন একটি গোপন ও নিরাপদ স্থান থেকে কাজ করছে। থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী দেশের বর্তমান সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোকে বুধবার বৈঠকে বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। একইসঙ্গে সামরিক বাহিনী দেশে যেন ইউক্রেন কিংবা মিসর পরিস্থিতি তৈরি না হয় তা প্রতিরোধেরও অঙ্গিকার করেছে।
থাইল্যান্ডে গত কয়েক মাস ধরে চলা সহিংসতা বন্ধে মার্শাল ল’ জারির একদিন পর বুধবার সামরিক বাহিনী বৈঠকের এ আমন্ত্রণ জানান। বেসামরিক প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে তীব্র মার্কিন চাপ সত্ত্বেও থাই সামরিক বাহিনী জানায়, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে এবং কেবল মাত্র নিরাপত্তা ইস্যুতে ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। ওই বৈঠকে থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিওয়াতুমরং বুনসংপাইসানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এ মাসের গোড়ার দিকে আদালতের নির্দেশের পর বুনসংপাইসান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার স্থলাভিষিক্ত হন। নিওয়াতুমরং আগামী ৩ আগষ্ট নতুন করে নির্বাচনের ডাক দেন।