ঢাকা নয় চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন চায় ইসি

ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের কোন বাজেট নেই, আছে চট্টগ্রামের ২০ বছর ধরে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না ঢাকার ভোটাররা চট্টগ্রামের নির্বাচন করতে হবে আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ঢাকার নির্বাচন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় :স্থানীয় সরকার সচিব মেয়াদ শেষ হলেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চিন্তা নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। অন্যদিকে মেয়াদ শেষ না হলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১২ কোটি টাকা চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ঢাকার দু্ই সিটির নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দের কোন প্রস্তাবই করা হয়নি। অবিভক্ত ঢাকা সিটির মেয়াদ সাত বছর এবং বিভক্ত দুই সিটির মেয়াদ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনের নানা অজুহাত ও অবহেলার কারণে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এখন বাজেট বরাদ্দ না রেখে নির্বাচন কমিশন পরোক্ষভাবে জানিয়ে দিল আগামী বছরও এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর হোসেন ইত্তেফাককে বলেছেন, ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হলে বাজেট নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। এ প্রসঙ্গে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে সরকার ঢাকা সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এ কারণে নানা জটিলতা তৈরি করে এ নির্বাচনকে আটকে রাখা হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক যে ১৯৯৪ সালের পর ঢাকার মানুষ আর ভোট দেয়ার সুযোগ পায়নি। যদিও তত্কালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের বর্জনের পর ২০০২ সালে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন হয়েছিল। তিনি অবিলম্বে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একতরফাভাবে ২০১১ সালের পহেলা ডিসেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই ভাগ করে। যদিও এর আগে জাতীয় সংসদে এই আলোকে আইন পাস করে নেয়া হয়। দু’টি ভাগ করার কোন দাবি কোন রাজনৈতিক দল বা সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কেউ কখনো উত্থাপন করেনি। এমনকি আইন পাসের আগে তত্কালীন শাসক দলের পক্ষ থেকেও এ ধরনের দাবি উঠেনি। সংসদে প্রণীত আইনে দুই সিটি করপোরেশন গঠনের ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ভোটার হালনাগাদ ও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন না করেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। অনেকের মতে, এটি ছিল একটি রাজনৈতিক কৌশল। এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হলে আটকে যায় নির্বাচন। হাইকোর্ট রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিলে নির্বাচনের বাধা দূর হয়। এ বাধা দূরের পর নতুন জটিলতা তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ঢাকার সুলতানগঞ্জকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু যেভাবে ওয়ার্ড বিন্যাস করা হয় তাতে আপত্তি জানায় কমিশন। কারণ পূর্বের ওয়ার্ডগুলো যেভাবে সীমানা বিন্যাস করা হয়, সুলতানগঞ্জ অন্তর্ভুক্তি সেভাবে করা হয়নি। যে কারণে ভোটার তালিকা করতে বিপাকে পড়ে কমিশন। কমিশন বিষয়টি সংশোধন করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ পাঠায়। এছাড়াও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও বনশ্রী আবাসিক এলাকা নতুন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জটিলতা নিরসনের জন্য কয়েকবার তাগাদা দেয়াও হয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিষয়টি দীর্ঘদিন ফেলে রেখেছে। আগামী বছরে নির্বাচন কমিশনের ‘নির্বাচনী ক্যালেন্ডারে’ সবচেয়ে বড় নির্বাচন দেখানো হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। আগামী অর্থবছরে অনুন্নয়ন খাতে ২১২ কোটি টাকা ও উন্নয়ন খাতে ৫০৫ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব রয়েছে ইসির। প্রস্তাবনায় আগামী বছর নির্বাচনের খাতে মোট ৭৮ কোটি টাকা চাওয়া হলেও এরমধ্যে ১২ কোটি টাকাই চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের জন্য। এছাড়া জাতীয় সংসদের শূন্য আসনসহ নির্বাচনে ৩০ কোটি, উপজেলা নির্বাচনে ৩০ কোটি, পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ৩ কোটি এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ৩ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনানুযায়ী মেয়াদপূর্তির ১৮০ দিন আগেই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১০ সালের ১৭ জুন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ জুলাই করপোরেশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী বছরের শুরুতেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। হালনাগাদকৃত নতুন ভোটার তালিকায় চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে ইসি সচিবালয়। সম্প্রতি ইসি সচিবালয় থেকে দ্রুত ঢাকার দুই সিটির সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে স্থানীয় সরকার বিভাগকে তাগিদ দেয়া হয়। ওই চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে সীমানা-জটিলতা সমাধান করে ইসিকে অবহিত করতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কোন জবাব মিলেনি। গত সপ্তাহে কমিশন সভার সিদ্ধান্তের অগ্রগতি বিষয়ে আলোচ্যসূচিতে ‘ডিসিসি নির্বাচন’ ইস্যু থাকলেও এ নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘জটিলতা কেটে গেলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন যে কোন সময় হতে পারে। তবে কবে হবে তা বলা যাচ্ছে না। এটা অনেকটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আশা করছি সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা চলতি বছরেই সমাধান করা সম্ভব হবে।’ নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক ইত্তেফাককে বলেন, ‘খুব দ্রুতই ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা দেখছি না। কারণ বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তফসিল ঘোষণা করেছিল। এরপর দীর্ঘ আইনি জটিলতার ফাঁদে আটকা পড়ে যায় এই নির্বাচন। আজ পর্যন্ত তার কোন সুরাহা হয়নি।’ এ প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যে জটিলতার কথা বলা হচ্ছে তা একদিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে পারে মন্ত্রণালয়।