বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার ২ কন্যার পাশে দাঁড়াননি ড. কামাল

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের যে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল তিনি তা করেননি। কর্তব্য পালনে ড. কামাল ব্যর্থ হন। এমনকি জার্মানিতে তখন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর আশ্রয়ে থাকা চরম অসহায় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সাহায্যেও তিনি এগিয়ে আসেননি, তাদের পাশে দাঁড়াননি। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিবৃতি দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা অনুরোধ করলে তাতেও রাজি হননি ড. কামাল। গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ড. হাছান মাহমুদ। ড. হাছান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন যুগোস্লাভিয়া সফরে ছিলেন। পরদিন ১৬ আগস্ট তিনি জার্মানিতে আসেন। তখন সেখানে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর বাসায় আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা চরম অসহায় অবস্থায় ছিলেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও চাকরিচ্যুতির ভয়কে উপেক্ষা করে হুমায়ুন রশীদ বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যাকে আশ্রয় দেন। কিন্তু ড. কামাল তাদের জন্য কিছুই করেননি। এসব সত্য জাতির জানা প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আরও বলেন, ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ছিলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন জেনারেল এমএজি ওসমানী। ওসমানীর পক্ষে কাজ করতে বলা হয়েছিল ড. কামালকে। কিন্তু তা না করে ঢাকার তত্কালীন মেয়র ব্যারিস্টার আবুল হাসনাতের ধমক খেয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে দেশত্যাগ করেন তিনি। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে সে সময় নিজের মধ্যে যে সাহস রাখার দরকার ছিল, ড. কামাল তা রাখেননি। এদিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ জানান, নিষিদ্ধ পলিথিন নির্মূলে পরিবেশ অধিদপ্তর একা অভিযান চালিয়ে পুরোপুরি সফলতা আনতে পারবে না। এজন্য এতে পুলিশ ও র্যাবকেও সংযুক্ত করে পলিথিনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য কমিটি মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে। এছাড়া চট্টগ্রামের ডিসি হিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ যেন করা না হয়, সেজন্যও মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কারণ এ নিয়ে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সংসদীয় কমিটি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করেছে। কমিটি সভাপতি জানান, চট্টগ্রামে রেলওয়ের জায়গায় রাস্তা প্রশস্ত করার নামে শতবর্ষী কিছু গাছ কাটা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে অনুমতি নেয়া হয়নি। রেলওয়ের কর্মকর্তাসহ যারা এই গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও সংসদীয় কমিটি মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে। এছাড়া আসন্ন বাজেটে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। তিনি জানান, নতুন অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয় ৪শ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। সংসদীয় কমিটি এই প্রস্তাব সমর্থন করেছে। ড. হাছান জানান, পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে এক সাইকেল র্যালি বের করা হবে। র্যালি থেকে ঢাকার রাস্তায় সাইকেলের জন্য পৃথক লেন স্থাপনের দাবি জানানো হবে। বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, টিপু সুলতান, গোলাম রাব্বানী, নবী নেওয়াজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।