দেশের ৪ স্থানে তীব্র তাপদাহ

তীব্র গরমে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই এতটুকু। গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ছিল এ পর্যন্ত বছরের উষ্ণতম দিন। পাবনায় ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি, যশোরে ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামে ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আকাশে মেঘের বলয় নেই। এতে তাপমাত্রার তীব্রতা কোনো ধরনের বাধা না পেয়ে বায়ুমণ্ডলে সরাসরি চলে আসে এবং গরমের তীব্রতা বাড়ে। কর্তব্যরত আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদ জানান, পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে ঢুকছে না। অনেক উপর দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণা বাতাসের সাথে পশ্চিমা বাতাসের সংযোগ হচ্ছে না বলে বৃষ্টি হচ্ছে না। তিনি বলেন, তিন-চার দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত হলেই তাপমাত্রা কমবে। তাপদাহে জ্বলছে বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহী অফিস থেকে আনিসুজ্জামান জানান, মধু মাসের (জ্যৈষ্ঠ) প্রথম সপ্তাহে রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চল জুড়ে বইছে আগুন ঝরা আবহাওয়া। আগুনের মত উত্তপ্ত বাতাস ও ভ্যাপসা গরমে প্রাণিকূল অস্থির হয়ে উঠেছে। সূর্যের সর্বোচ্চ তাপে নগর, বন্দর ও গ্রামাঞ্চলের মাঠে যেন আগুন ঝরছে। ফ্যানের বাতাসে মিলছে না এতটুকু স্বস্তি। সর্বত্রই যেন আগুনের তাপ। এমন বৈরি আবহাওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। জরুরি কাজ ছাড়া এতটুকু সময়ের জন্যও দুপুরে ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, তাপদাহ প্রতিদিন বাড়ছে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ও ৯ মে রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, ২০০০ সালে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিলো ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবারের রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৪ বছরের রেকর্ড ভাঙ্গলো। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি মৌসুমেরও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। সূত্র জানায়, ১৯৭২ সাল থেকে রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড শুরু হয়। ওই সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনোয়ারা বেগম বলেন, পুরো এপ্রিল মাসে চারদিনে ৫০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরপর চলতি মে মাসের ২ তারিখে ৩৩ দশমিক ৪ মিলিমিটার এবং ১২ তারিখে ১৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এবার বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রেও রেকর্ড ভাঙ্গার আশঙ্কা কম। আগামী ৩০ মে’র পর দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে রাজশাহী অঞ্চলের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। তিনি আরো জানান, বুধবার বাতাসের আর্দ্রতা ছিল সকাল ৬টায় ৯২ শতাংশ এবং বিকাল ৩টার দিকে ৪৩ শতাংশ। পূর্বাভাস অনুযায়ী আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। এদিকে প্রচণ্ড গরমে ফুল-ফল-সব্জির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কাঁচা আম শুকিয়ে যাচ্ছে। ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে লিচুও। বারবার সেচ দিয়েও অবস্থা সামাল দেয়া যাচ্ছে না। কৃষিবিদরা বলছেন, কৃষক বেকাদায় পড়েছেন ক্ষেতের ফসল নিয়ে। খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টের সীমা চরমে পৌঁছেছে। প্রকোপ বেড়েছে বিভিন্ন রোগের। শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবুজ ফসলের মাঠ বিবর্ণ আকার ধারণ করেছে।