স্পোর্টস রিপোর্টার
তারা দুই জনই প্রমাণ করে ফেলেছেন, সময় তাদের কাছ থেকে ফর্ম কেড়ে নিতে পারেনি। ডেভিড ওয়ার্নার আইপিএলে রানবন্যা বইয়ে দিয়ে গেছেন। অন্য দিকে স্টিভেন স্মিথ প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে রানের পর রান করছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেছেন স্মিথ; দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেছেন ওয়ার্নার।
ফর্মে থাকলেও নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা স্মিথ-ওয়ার্নারকে সামলাতে হচ্ছে অন্য ধরনের ঝামেলা। মাঠের বাইরে থেকে ইংলিশ দর্শকরা দুয়ো ধ্বনি দিয়ে চেষ্টা করছেন তাদের মনোসংযোগ নষ্ট করার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেও এই ঘটনা ঘটেছে স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে। কিন্তু স্মিথ বলছেন, এসব আওয়াজে তিনি কান দিচ্ছেন না।
শনিবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানটান উত্তেজনার ম্যাচ ১২ রানে হেরেছে ইংল্যান্ড। সাউদাম্পটনে আগে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ২৯৭ রান তোলে। সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ১১৬ রান করেন এবং তার সময়ের সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নার ৪৩ রান করেন। লিয়াম প্লাঙ্কেট ৪ উইকেট নেন।
জবাবে ভিন্সের ৬৪, জস বাটলারের ৫২ ও ওকসের ৪০ রানে কাছাকাছি গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু অলআউট হয়ে যায় তারা ২৮৫ রানে।
এর আগে মাঠে নামার সময় দর্শকরা স্মিথ ও ওয়ার্নার, দু জনকেই দুয়ো ধ্বনি দিয়েছিল। ম্যাচশেষে স্মিথ বলছিলেন, এসব তিনি কানে না নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
অস্ট্রেলিয়া দলে ফেরার পর প্রথমবারের মতো সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্মিথ বলেছেন, ‘আমি যখন ব্যাট করতে যাচ্ছিলাম, তখন কিছু শব্দ শুনেছি। কিন্তু নিজের ভেতরে এসব ঢুকতে দেইনি। আমি এক ধরনের চেষ্টা করছিলাম যে, নিজের মাথা নুইয়ে রাখার এবং নিজের কাজটা করা ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার। ভাগ্যক্রমে আজ আমি দলের জন্য কিছু রান করতে পেরেছি। তার চেয়েও বড় ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে আমি উইকেটে বেশ কিছু সময় কাটাতে পেরেছি।’
অন্য সময়ে দুয়ো দেওয়া হলেও সাধারণত কোনো খেলোয়াড় কোনো মাইলফলকে পৌঁছালে তাকে অভিনন্দনই জানায় দর্শকরা। কিন্তু স্মিথের সেঞ্চুরির পরও দুয়োর আওয়াজ থামেনি। এটাকেও স্বাভাবিক ভাবে নিয়েছেন সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘এটা আমাকে কোনোরকম বিরক্ত করেনি।
আমি আমার কাজটা করে গেছি। আমি জানতাম, ব্যালকনিতে আমার সতীর্থরা আমার জন্য দাঁড়িয়েছিল। ওটাই আমার জন্য বড় ব্যাপার। আমি যদি তাদের গর্বিত করতে পারি, সেটাই যথেষ্ট।
আমি যদি আমার কাজ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ানদের গর্বিত করতে পারি, সেটাই আমার সঠিক কাজ বলে আমি মনে করি।’