আঁধার ঘরে চাঁদের আলো

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান জাকারিয়া ডাক্তার হতে চায় আর বরফ বিক্রেতার ছেলে নূরুল ইসলাম পেয়েছে জিপিএ-৫। লালমনিরহাটে কৃষি শ্রমিকের কাজ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে নিরঞ্জন। শত অভাবের ডিঙ্গি পার করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ফরিদপুরের মধুখালীর হতদরিদ্র নিপা আকতার। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ উপজেলার চকঘোড়াপাখিয়া গ্রামের মৃত রবিউল ইসলাম ও মাতা সেকিনা বেগমের পুত্র মো. জাকারিয়া এবার এসএসসি পরীক্ষায় রাণীহাটি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। কাঁচা তরকারি বিক্রেতা ভাইয়ের অনুপ্রেরণা, শিক্ষকদের সঠিক পাঠদান এবং নিজের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে এই ফলাফল অর্জন করেছে সে। ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় জাকারিয়া। একই উপজেলার চকঘোড়াপাখিয়া গ্রামের বরফ বিক্রেতা আব্দুল মতিনের ছেলে নুরুল ইসলাম রাণীহাটি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছুটির দিনেও নুরুল ইসলাম পিতার বরফ বিক্রিতে সহায়তা করতো। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পিতা-মাতা নুরুলকে আর লেখাপড়া করাতে পারবেন কি-না তা নিয়ে ভীষণভাবে চিন্তিত তারা। লালমনিরহাট অদম্য মেধাবী নিরঞ্জন রায় কৃষি শ্রমিকের কাজ করে সদর উপজেলার ভাটিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় হতে বাণিজ্য শিক্ষা শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। আশা নামের এনজিও হতে মায়ের নামে ৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফরম পূরণ, টিউশন ফি ও নতুন কিছু বই পত্র কিনেছিল। নিরঞ্জনের বিধবা মা কিরোন বালা ছেলের সাফল্যে আনন্দিত। তবে লেখাপড়া কিভাবে হবে সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি। মধুখালী (ফরিদপুর) শত অভাব দারিদ্র্যতার কাছে হার মানেনি নিপা আকতার। মধুখালী উপজেলার মাহমুদুননবী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় নিপা পেয়েছে জিপিএ-৫। মেয়ের এ সাফল্যে বেজায় খুশি বেলেশ্বর গ্রামের দিনমজুর পিতা বাবু সেখ ও মাতা শিউলী বেগম। নিপার বাবা জানান, তাদের মাত্র ৩ শতাংশ জমির উপর ছোট একটি কাঁচা ঘরে বিদ্যুত্ নেই। লেখাপড়ার খরচ মেটাতে অক্ষম তিনি। তাই নিপা গৃহশিক্ষকতা করে পড়ালেখার খরচ বহন করে। নিপার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও ভবিষ্যতে লেখাপড়া করাই তার অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।