চীন-রাশিয়া ৩০ বছর মেয়াদি গ্যাস চুক্তি
প্রকাশ : ২২ মে ২০১৪, ২১:৩৭
রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে গিয়ে চীনের সাথে ৩০ বছর মেয়াদি গ্যাসচুক্তি সম্পন্ন করেছেন। বুধবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের গ্যাস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে চীনের সাথে তাদের এই চুক্তি মস্কোর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই চুক্তির ফলে চীনের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হবে। —টাইমস অব ইন্ডিয়া
চুক্তির পর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়া ও ইরানকে নিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে এশিয়ান নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার আহ্বান করেছেন। ইউক্রেন ইস্যুতে মস্কোর ওপর শাস্তি হিসাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে ইউরোপের বাজার হারাতে পারে রাশিয়ার গ্যাস। এ চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়ার গ্যাস বিকল্প বাজার নিশ্চিত করলো। রাশিয়া আসা করছে, আগামী ৪ বছরের মধ্যে চীনে গ্যাস সরবরাহের পাইপ নির্মাণ শেষ হবে এবং ২০১৮ সাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। এ পাইপ নির্মিত হলে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াতেও রাশিয়ার গ্যাসের বাজার খোঁজা হতে পারে।
অক্সফোর্ড ইন্সটিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের একজন জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী কেউন উক পেইক বলেন, এ চুক্তি রাশিয়ার কাছে এশিয়ার গ্যাস বাজার উন্মুক্ত করেছে। শুধু তাই নয় রাশিয়াকে একঘরে করে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে তাও ব্যর্থ হতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের জ্বালানির মজুদ নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে গ্যাস চুক্তি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ফলেই যে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে তা বলা যায় না। বরং চীন এবং রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের চুক্তির জন্য কাজ করে আসছে। এ চুক্তির ফলে যদি বিশ্ববাসী লাভবান হয় তবে তা ভালো।
চুক্তির ফলে রাশিয়া নিয়ন্ত্রণাধীন গ্যাজপ্রম চীনা ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে বার্ষিক ৩৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করবে। গ্যাজপ্রম মুখপাত্র সারজে কুপ্রিয়ানোভ বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, চীনের বার্ষিক গ্যাস চাহিদা ১৫০ বিলিয়ন ঘনফুট যার প্রায় এক চতুর্থাংশই সরবরাহ করবো আমরা।