সুন্দরবনে আগুন এখনো নেভেনি

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের গুলিশাখালী ও আমুরবুনিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের মাঝামাঝি ২২ ও ২৩ এর ছিলা এলাকার গহীন অরণ্যে বুধবার বিকালে লাগা আগুন গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। শুরুতে দাউ দাউ আগুনে কয়েক একর বন পুড়ে যাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মোড়েলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও বনবিভাগের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে। এখনও সুন্দরবনের ভেতরে তুষের আগুনের মত বিক্ষিপ্তভাবে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার লাইন কেটে (নালা কেটে) তাতে পানি ভরে রেখে আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার চেষ্টা চালাচ্ছে। সামান্য বাতাসে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে বৃহস্পতিবার বিকালে সুন্দরবনে আগুন নিয়ন্ত্রণ কাজে নিয়োজিতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। আগুন নেভানোর কাজে সক্রিয় শরণখোলার সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ কামাল উদ্দিন বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ইত্তেফাককে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কয়েক একর বনভূমি জুড়ে জমে থাকা পাতার মধ্যে মাঝে মাঝে তুষের আগুনের মত আগুন জ্বলে উঠছে। দমকল কর্মী ও বনকর্মীরা আগুন দেখলেই সেখানে ছুটে গিয়ে পানি দিয়ে তা নিভিয়ে দিচ্ছেন। চাঁদপাইয়ের রেঞ্জ অফিসার আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থল থেকে জানান, বিরাট এলাকা জুড়ে জমে থাকা পাতা পচে যে দাহ্যপদার্থ তৈরি হয়েছে সেখানে প্রচণ্ড গরমে ভেতরে ভেতরে আগুন থেকে যাওয়ায় তা নেভানোর কাজ চলছে। এ কাজে অর্ধ-শতাধিক বন কর্মী, ১৫ জন দমকল কর্মী ও ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছে। রাতেও আগুন নেভানোর কাজ চলবে। বিকালে আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত মোড়েলগঞ্জ দমকল বিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা আরিফুল হক জানান, আগুনে সুন্দরবনের ৮/৯ একর বন পুড়ে গেছে। এখন ভূমির উপরে দৃশ্যমান আগুন দেখা না গেলেও খানিক পর পর ধোঁয়ার কুণ্ডলি পাকিয়ে আগুন বিভিন্ন জায়গায় জ্বলে উঠছে। তিনি জানান, সম্পূর্ণভাবে আগুন নেভাতে আরো সময় লাগবে। এদিকে আগুন লাগার ২৪ ঘন্টার মধ্যেও দুর্ঘটনাস্থলে বিভাগীয় বা সার্কেল পর্যায়ের কোন বন কর্মকর্তা পৌঁছেননি। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) আমীর হোসাইন চৌধুরী মোবাইল ফোনে ইত্তেফাককে বলেন, সুন্দরবনে যে অংশে আগুন লেগেছিল তা সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুন লাগা বনের আশপাশ এলাকা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে ও ফায়ার লাইন কেটে (নালা) আগুন যাতে পরবর্তীতে আরো বড় কোন দুর্ঘটনা না ঘটাতে পারে সেজন্য কাজ করছে। ডিএফও আরো জানান, আগুন যাতে বনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য সাড়ে তিন একর এলাকা জুড়ে ফায়ার লাইন কেটে দেয়া হয়েছে। প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি নালা থেকে পানি নিয়ে বন বিভাগের ৬০ সদস্যের একটি দল বুধবার বিকাল থেকে আগুন নেভানোর জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগুনে ইতিমধ্যে প্রায় তিন একর বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুনে বনের ঐ এলাকায় কিছু বলাগাছ জাতীয় গুল্ম পুড়ে গেছে বলে ডিএফও স্বীকার করেছেন। এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ঢাংমারী স্টেশন অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম ও জিউধরা স্টেশন অফিসার সুলতান মাহমুদ। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে রির্পোট দিতে বলা হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নিয়ে ১৭ বার এ বিভাগের অধীন গহীন অরণ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। বুধবার বিকালে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের গুলিশাখালী ও আমুরবুনিয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের মাঝামাঝি ২২ ও ২৩ এর ছিলা এলাকার গহীন অরণ্যে বনজীবীরা আগুন প্রথমে দেখতে পায়। পরে তারা সুন্দরবনে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে বন বিভাগকে খবর দেয়। কোন বনজীবীর ফেলে আসা আগুন, বিড়ি-সিগারেটের আগুন অথবা মৌয়ালদের অসাবধানতার কারণে এই আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এমন কথা জানান মোড়েলগঞ্জ দমকল স্টেশন অফিসার আরিফুল হক।