পদ্মা সেতুর দর প্রস্তাব ক্রয় কমিটি অনুমোদন করল
প্রকাশ : ২২ মে ২০১৪, ২৩:১৬
পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণের কাজ পাচ্ছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির দরপত্র অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের জানান, চীনা কোম্পানির ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার দর প্রস্তাব কমিটি অনুমোদন করেছে। সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে আগামী জুন মাসের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করা হবে।
তিনি আরো জানান, তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও জমা দিয়েছিল একমাত্র চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। গত ২৬ জুন চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বানের পর মূল সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৩ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বলেন, আশা করা হচ্ছে অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে মূল সেতুর কাজ শুরু হবে এবং প্রকল্পের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে চার বছর। সেতুর স্থায়ীত্বের গ্যারান্টি হবে একশ’ বছর। ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি যখন এর ব্যয় প্রাক্কলন করেছিল তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার কোটি টাকা। আর এইকম নামের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্যয় প্রাক্কলন করেছিল ১৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। তবে চীনা কোম্পানিটিকে কাজ দেয়া হয়েছে ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ২৯ লাখ টাকায়। আগামী জুলাইয়ে নদী শাসন কাজের দর প্রস্তাব দেয়ার সময় ব্যয় আরো বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চীনা কোম্পানিকে কাজ দেয়া হলো এ নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দেবে কিনা - এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দু’টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনেও বার বার সময় বৃদ্ধির আবেদন করে। দুই দফা সময় বৃদ্ধি করার পর আবারো সময় বাড়ানোর আবেদন করে কোম্পানি দু’টি, কিন্তু মূল্যায়ন কমিটি তা নাকচ করে দেয়। ফলে এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি তা বলা যাবে না। এ প্রকল্পে আবারো দুর্নীতি হলে কোন পক্ষ তা তদন্ত করবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন রয়েছে। ইতিপূর্বে দুর্নীতির যে অভিযোগ রয়েছে তাও দুদক তদন্ত করছে।
চীনা প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে অর্থ প্রদান করা হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, মোট ব্যয়ের ৭৪ শতাংশ ডলারে পরিশোধ করা হবে। পদ্মা সেতুর জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের পাওনা ডলারে পরিশোধ করা হবে। এছাড়া ভারতের ২০ কোটি ডলারের অনুদান এ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। কোন দাতা সংস্থা ঋণ দিতে চাইলে নেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ এবং টেন্ডার হয়ে যাবার ফলে এ প্রকল্পে কোন দাতাসংস্থার অর্থায়নের সুযোগ নেই। তবে কেউ যদি অনুদান দিতে চায় সে অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে।
গতকালের বৈঠকে কানাডা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টন পটাশ সার এবং ১৯ হাজার ৪৫০ টন কাগজ ক্রয়ের প্রস্তাবও অনুমোদন করে ক্রয় কমিটি।