হাইকোর্টই রায় দিয়েছে বাড়ি সংক্রান্ত সকল দলিলপত্র সত্য

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করতেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আমার বিরুদ্ধে গুলশানের বাড়ি নিয়ে মামলা করেছে। এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা যে কোন আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হবে। হাইকোর্টের একটি রায়ে বলা হয়েছে এই বাড়ি সংক্রান্ত সকল দলিলপত্র সত্য ও সঠিক। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, গুলশানের বাড়িতে আমরা গত ৩৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছি। সেই বাড়ির দখল সম্পর্কে দুদক নিম্ন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এর প্রত্যেকটি অভিযোগই মিথ্যা, ভুয়া ও ভিত্তিহীন। এই অভিযোগপত্র দাখিলের পূর্বে দুদকের উচিত ছিলো আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া। তিনি বলেন, এই বাড়ির মালিক ছিলেন অস্ট্রিয়ান নাগরিক ইঙ্গে ফ্লাটস। আমি শুধু তার একজন আইনজীবী ছিলাম। অস্ট্রিয়ান সরকারের আবেদনক্রমে আমাদের সরকার যখন এই বাড়িটি রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে দেন তখন আমি সরকারে ছিলাম না। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়ের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রি করা দলিলের মাধ্যমে লন্ডন বসবাসরত আমার ভাই এই বাড়ির মালিক হন। সেই রায়ে আরো বলা হয়েছে যে এই বাড়ি সংক্রান্ত সকল দলিলপত্র সত্য ও সঠিক। হাইকোর্ট ডিভিশনের (রিট পিটিশন নং-৩৮৩৬/২০১০) আরো একটি রায়ে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে এই বাড়িটি কোন পরিত্যক্ত সম্পত্তি নয় এবং বাড়ির ওপর সরকারের কোন মালিকানা নেই। আমি যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করতাম তাহলে আমাদেরকে গত ৩৩ বছর যাবত আইন আদালতের আশ্রয় নিয়ে এই ধরনের হয়রানির শিকার হতে হত না। তিনি বলেন, হাইকোর্টের ওই দুটি রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ও রাজউকের করা আপিল এখন বিচারাধীন। এই আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় এই ধরনের ফৌজদারি মামলা দায়ের করাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শুধুমাত্র আমার চরিত্র হননের জন্যই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশে দুদক মামলা করেছে। গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মত মিথ্যা অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা করা হয়েছে। আমাদের দলের এমন কোন নেতা নেই যার নামে মামলা নেই।