নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যয় আড়াই কোটি টাকা
প্রকাশ : ২২ মে ২০১৪, ২৩:২০
অবশেষে আওয়ামী লীগসহ তিনটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৯২ হাজার ৭১২ টাকা। বৃহস্পতিবার দলটির পক্ষ থেকে এ হিসাব কমিশনে জমা দেয়া হয়। এছাড়াও জাতীয় পার্টি-জেপি ও নবগঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট-বিএনএফ হিসাব জমা দিয়েছে। এদিকে নির্বাচনী ব্যয় জমাদানে ব্যর্থ এবং নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেয়া ১৭ জনের বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে মামলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যেসব রাজনৈতিক দল এখনো ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি তারা ৩ জুন পর্যন্ত সময় পাবে। এর মধ্যে হিসাব না দিলে জরিমানাসহ আরো ১৫দিন সময় দেয়া হবে। এরপরেও কোন দল হিসাব প্রদানে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল করা হবে। ১৭ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী গত ২৩ এপ্রিল দলীয় ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার কথা ছিল। ওই সময়ের মধ্যে কোনো দলই হিসাব জমা দেয়নি। এরপর কমিশন বিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেয়া ১২টি দলকে সতর্ক করে গত ৪ মে এক মাসের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার জন্য চিঠি দেয়। ইসির চিঠিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৪ সিসিসি ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয় জমা দিতে ব্যর্থ হলে ৩০ দিনের সময় দিয়ে সতর্ক চিঠি দেবে কমিশন। এরপরেও কোন দল জমা না দিলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে আরো ১৫ দিনের সময় নিতে পারবে। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও যদি দলগুলো হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে কমিশন ওই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।’
নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ব্যয় ছিল তিন কোটি ৬০ লাখ টাকার মতো। তবে এবার বিএনপি সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় ১৫৩টি আসনে কোনো ভোট হয়নি। এসব আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ১৪৭টি আসনে।
গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সিরাজুল ইসলামের কাছে দলীয় নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেন। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওসার। এ সময় আবদুস সোবহান সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনী প্রচারণা, দলীয় সভানেত্রীর সভা-সমাবেশ-মিছিল, বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য খাতে এই ব্যয় দেখানো হয়েছে।
এছাড়াও জাতীয় পার্টি-জেপি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং বিএনএফ ৫৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে।
এরশাদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দেননি ৯ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে কুমিল্লা-৫ আসনের সফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাকী ৮ জনের বিরুদ্ধে এবং নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেয়া আরো ৯ জনসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ইসি থেকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা ব্যয়ের হিসাব দেননি তারা হলেন, লালমনিরহাট-১ আসনে জাতীয় পার্টি-জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, শেরপুর-৩ জাসদের আবদুর রাজ্জাক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হেদায়েতুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৫ বিএনএফ-এর মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, বরিশাল-৪ আসনে জয়নাল আবেদীন, লক্ষ্মীপুর-১ জাপার মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জাপার বেলাল হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম শরিফ উদ্দিন। এই ৮ জনের মধ্যে কেউই এসব আসন থেকে নির্বাচিত হননি। তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছেন তিনি। তবে এরশাদের লালমনিরহাট-১ আসনে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব সময়মতো জমা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এরশাদ দাবি করেছেন, তিনি নির্বাচনী ব্যয় যথা সময়ে জমা দিয়েছেন।