র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চাইলেন মজীনা
প্রকাশ : ২২ মে ২০১৪, ২৩:২০
র্যাবের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা। নারায়ণগঞ্জে সাত খুনে র্যাবের তিন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাজধানীর র্যাব সদর দফতরে অপরাধী সনাক্তকরণ এবং প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্যে দিতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। মজীনা বলেন, সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের অভিযোগের সময়োচিত, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কাজে আপনাদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। র্যাবের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন ‘স্বচ্ছভাবে’ জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বানও জানান তিনি। তিনি বলেন, সামপ্রতিক ঘটনাবলি র্যাবের ওপর একটি কালো ছায়া ফেলেছে।
র্যাবের আট সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেলের কার্যকারিতা শক্তিশালী করতে সরকারের আন্তরিকতার পরিচয় বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এখন আগের চাইতেও এটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে, অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেল নিজের উদ্যোগে র?্যাব সদস্যদের কাজের তদন্ত শুরু করতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি র?্যাব সদস্যদের বাড়াবাড়ি ও নির্যাতন বিষয়ে জনগণ যখন রিপোর্ট করবে সেই অভিযোগে সাড়া দেবে। নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে র্যাবের সমালোচনা হচ্ছে। র?্যাব-এর নাম ব্যবহার করে যারা নিপীড়ন-নির্যাতন চালাচ্ছে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান ড্যান মজীনা। কারণ মুষ্টিমেয় কয়েকজনের জন্য পুরো সংস্থার এবং যারা সম্মানের সাথে কাজ করেন তাদের দুর্নাম হয়। আর এখন এর ভার আপনাদের ওপরেই এসে বর্তায়। এইসব তদন্তকাজ আপনাদেরকে করতে হবে নির্ভয়ে এবং স্বচ্ছতার সাথে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। যাতে করে এই সংগঠনের ওপর জনগণের অধিকতর ভরসা গড়ে ওঠে এবং তারা আস্থা রাখতে পারে।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় ২০১২ সালে র্যাব সদর দপ্তরে অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেল গঠিত হয়। মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় প্রথমেই একটি ফাউন্ডেশন কোর্সের আয়োজন করা হয় এবং সেখান থেকে ২০ জন সদস্যের মাধ্যমে সেল প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তখন থেকেই এ সেল কাজ করে যাচ্ছে। গত ২ বছরে এ সেল গুরুত্বপূর্ণ কিছু তদন্তকাজ সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানেও মোট ১০টি বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় র্যাব সদর দপ্তর ও মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে গত ৩০ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত ৮ সপ্তাহব্যাপী আরেকটি কোর্স পরিচালিত হয়। এতে ২৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। দুইজন মার্কিন প্রশিক্ষক সম্পূর্ণ কোর্স পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছেন।
র্যাব সদর দফতরে উক্ত কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল জিয়াউল আহ্সান, ড. আফতাব উদ্দিন আহমেদ ছাড়াও মার্কিন দূতাবাস এবং র্যাব সদর দফতরের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।