সাবেক প্রেমিকা ভাড়াটিয়া কিলার দিয়ে হত্যা করান
প্রকাশ : ২২ মে ২০১৪, ২৩:২১
প্রেম ছিল দশ বছরের। কিন্তু প্রেমিক যুবদল নেতা জিয়াউল হক সেন্টু শেষটায় বিয়েতে রাজি হননি। আর রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন প্রেমিকা মোরশেদা আক্তার প্রিয়া। বিয়ের পর তিন সন্তানের মা হবার পরও তিনি ভুলতে পারেননি পুরনো প্রেমিক সেন্ু্বকে। আবার তার পিছু নিয়েছেন। এবারও ব্যর্থ হন। এ ব্যর্থতার ক্ষোভ থেকে ভাড়াটিয়া কিলারদের দিয়ে সেন্টুকে হত্যা করেন তিনি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সেন্টু হত্যা ঘটনায় প্রিয়াসহ ৭ জনকে বুধবার রাজধানী থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা বর্ণনা করেন হত্যার বিস্তারিত কাহিনী। গত ১৫ মে গভীর রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা যুবদল নেতা জিয়াউল হক সেন্টুর (৩৮) লাশ। তাকে ছুরিকাঘাত ও গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন রমনা থানায় মামলা হয়। মামলার তদন্ত পায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অপর ৬ জন হচ্ছেন প্রিয়ার গাড়ি চালক সোহাগ হাসান, ভাড়াটিয়া কিলার হাবিব, আবুল হাসান, পারভেজ, সুজন শেখ ও সোহেল রানা। ডিবি পুলিশ ৭ জনকে গতকাল তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’ তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মোরশেদা আক্তার প্রিয়া। তার গ্রামের বাড়ি নাটোরের লালপুরে। সেন্টুর সঙ্গে দশ বছরের প্রেমের সর্ম্পক। কিন্তু সেন্টু তাকে বিয়ে করতে রাজি হননি। এ অবস্থায় ৭/৮ বছর আগে প্রিয়ার অন্যত্র বিয়ে হয়। বর্তমানে তিন সন্তানের জননী প্রিয়া স্বামী সন্তান নিয়ে ঢাকাতে বসবাস করছেন। কিন্তু এত কিছুর পরও প্রিয়া সেন্টুকে ভুলতে পারেননি। প্রিয়া তার স্বামীর সংসার ছেড়ে আবারও সেন্টুকে বিয়ে করতে উঠেপড়ে লাগেন। কিন্তু দুই বছর আগে সেন্টু অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন প্রিয়া। এ অবস্থায় প্রিয়া সেন্টুকে তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেন। কিন্তু সেন্টু এবারও তাকে বিয়ে করতে অসম্মতি জানান।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, আর বিয়ের সকল চেষ্টা যখন ব্যর্থ হয় তখন প্রিয়া সেন্টুকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক সোহাগকে ব্যবহার করেন। ঘটনার দিন প্রিয়া কৌশলে সেন্টুকে ঢাকায় ডেকে আনেন। আর পরিকল্পনা মতে তাকে নিয়ে যান হাতিরঝিলে। রাত পৌনে দু’টার দিকে প্রিয়া ও সেন্টু হাতিরঝিল ৪০ ঘর বস্তির সামনে বসে গল্প করতে থাকেন। এ সময় চালক সোহাগসহ অন্যরা সেন্টুকে এলোপাতাড়িভাবে ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে সেন্টু নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তবে মৃত্যু নিশ্চিত করতে সোহাগ সেন্টুর শরীরের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে সহযোগীদের নিয়ে পালিয়ে যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি সাব-ইন্সপেক্টর দীপক কুমার দাস বলেন, হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রিয়া ১০ লাখ দিতে রাজি হন। সোহাগই অন্য কিলারদের ভাড়া করে। ঘটনার দিনে সেন্টু ঢাকায় আসেন সন্ধ্যার দিকে। আর সন্ধ্যার পর থেকেই প্রিয়া তার মাইক্রোবাসে করে রাজধানীর বিভিন্নস্থানে ঘোরাফেরা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকজন বালু শ্রমিক। তারা বিষয়টি দেখে ফেলে ধাওয়াও করেছিলো। বালু শ্রমিকদের বর্ণনা ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাজধানীর মীরবাগ ও মধুবাগ এলাকা থেকে প্রিয়াসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত মাইক্রোবাসটি।