সাধারণত আবহাওয়া ও জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন এবং দিনের আলোর মাধ্যমে ঋতু চিহ্নিত হয়ে থাকে
প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৪, ১৯:২৭
বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মিলে গ্রীষ্মকাল। বসন্তের শেষে আবহাওয়া একটু একটু করে গরম হতে শুরু করে। মাটি হতে থাকে ফ্যাকাশে। ধীরে ধীরে তাপ বাড়তে থাকে। এ সময় সূর্যের প্রচন্ড তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভূমি, ধানের ক্ষেত, ঘরের চাল।
গ্রীষ্ম ঋতুর প্রকৃতি
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমরা জান পরিবেশ দুই প্রকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের তৈরি পরিবেশ আমরা প্রকৃতি পাঠে দুই প্রকার পরিবেশেরই বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করব এতে তোমরা আরো বেশি সৃজনশীল ও মননশীল হতে পারবে।
গাছ-পালা, নদী-নালা, খাল-বিল, পশু-পাখি, আকাশ-বাতাস, চন্দ্র-তারা পাহাড়-পর্বত প্রভৃতি নিয়েই প্রকৃতি। প্রকৃতি বলতে স্বয়ং স্রষ্টার সৃষ্টি বিশ্বজগতের মানবসৃষ্ট-নয় এমন দৃশ্যমান বিষয়গুলোকে বুঝানো হয় যাকে প্রাকৃতিক উপাদান বলে। ইংরেজিতে প্রকৃতিকে Nature বলা হয়। ভিন্ন অর্থে প্রকৃতি বলতে স্রষ্টার সকল সৃষ্টিকে বুঝানো হয়। যেমন গ্রীষ্মের গরম, শীতের শীত, বর্ষার বৃষ্টি প্রভৃতি। অপরদিকে গাছ-পালা, নদী-নালা, খাল-বিল, পশু-পাখি প্রভৃতি প্রকৃতির উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
তিনশত পয়ষট্টি দিনে একবছর হয়। এক বছরের আবহাওয়া সর্বদা এক রকম থাকে না। আমাদের দেশে প্রতি দুই মাস পর পর এই বাত্সরিক আবহাওয়াকে ভাগ করা হয়, যাকে আমরা মৌসুম বা ঋতু (Season) বলি। সাধারণত আবহাওয়া ও জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন এবং দিনের আলোর মাধ্যমে ঋতু চিহ্নিত হয়ে থাকে। এছাড়াও, সূর্যের চতুর্দিকে ঘূর্ণায়মান পৃথিবীর বার্ষিক পরিক্রমণও ঋতু পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। বসন্ত ঋতুতে ফুল ফোটে, শীতকালে শজারু ঘুমিয়ে থাকে। এর মাধ্যমেই আমরা উপলব্ধি করি যে ঋতু পরিবর্তিত হয়েছে। সচরাচর স্থানীয় আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে বত্সরের সময়কালকে ঋতু বিভাজন করা হয়।
ঋতু বৈচিত্রের দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ সুজলা-সুফলা। এ দেশে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরত্, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এই ছয়টি ঋতু বিরাজমান। বৈশাখ - জ্যৈষ্ঠ মাস গ্রীষ্মঋতু (মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য জুন), আষাঢ়- শ্রাবন মাস বর্ষা ঋতু (মধ্য জুন থেকে মধ্য আগস্ট), ভাদ্র- আশ্বিন মাসকে শরত্ ঋতু (মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর), কার্তিক -অগ্রহায়ন মাসকে হেমন্ত ঋতু (মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য ডিসেম্বর), পৌষ- মাঘকে শীত ঋতু (মধ্য-ডিসেম্বর থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি) এবং ফাল্গুন - চৈত্র মাসকে বসন্ত ঋতু হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রতিটি ঋতুর কিছু কিছু স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র রয়েছে। বিশ্বের অধিকাংশ
দেশে বসন্ত (সিপ্রং), গ্রীষ্ম (সামার), হেমন্ত (অটাম) ও শীত (উইন্টার) - এই চারটি প্রধান ঋতু দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যে আমাদের দেশের মতো ৬টি ঋতু বিদ্যমান।
এই ঋতুগুলো কিন্তু মানুষের সৃষ্টি নয়, প্রকৃতি সৃষ্ট। এ মহাবিশ্বে সূর্যের ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বায়ুমন্ডলে উষ্ণতার পরিবর্তন হয়। সূর্যের উষ্ণতা পরিবর্তনের প্রভাব পরছে গাছ পালা , নদী-নালা , পশুপাখি প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপাদানের উপর। ফলে এ প্রাকৃতিক উপাদান গুলোর রূপ পরিবর্তিত হয়ে বিভিন্ন বৈচিত্রে আবির্ভূত হয়। প্রকৃতির এ সকল উপাদানের বৈশিষ্টের পরিবর্তনই হলো ঋতু। কিন্তু এই ছয়টি ঋতরু মধ্যে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত ঋতুর বৈচিত্র্যই আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করে থাকি। প্রকৃতির সাথে প্রতিটি ঋতুর যোগসূত্রের বন্ধন সুগভীর এবং একই সূত্রে গাঁথা। এক ঋতুর সমারোহ শেষ হলে আরেকটি ঋতু আসে। এটাই চিরন্তন। প্রত্যেকটি ঋতু সৌন্দর্য্যের অলঙ্কার স্বতন্ত্র, উপভোগেও রয়েছে ভিন্নতা।
অঞ্চলভেদে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকায় দুইটি ঋতু থাকে। বর্ষাকাল এবং শুষ্ককাল। আবার শীত প্রধান এলাকায় দুইটি মাত্র ঋতু থাকে-বসন্ত ও গ্রীষ্ম। কোনো কোনো অঞ্চলে মাত্র একটি ঋতু থাকে যা শীত ঋতু নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। এখানকার আবহাওয়াতে নিরক্ষীয় প্রভাব দেখা যায়। নভেম্বর হতে মার্চ পর্যন্ত হালকা শীত অনুভূত হয়। মার্চ হতে জুন মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল চলে। জুন হতে অক্টোবর পর্যন্ত চলে বর্ষা মৌসুম। এসময় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ - যেমন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, জলোচ্ছাস ইত্যাদি প্রতিবছরই আঘাত হানে ও নিত্য সঙ্গী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
গ্রীষ্ম ঋতু
বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মিলে গ্রীষ্মকাল। বসন্তের শেষে আবহাওয়া একটু একটু করে গরম হতে শুরু করে। মাটি হতে থাকে ফ্যাকাশে। ধীরে ধীরে তাপ বাড়তে থাকে। এ সময় সূর্যের প্রচন্ড তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভূমি, ধানের ক্ষেত, ঘরের চাল। নদ-নদী, পুকুর-ডোবা, খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যায়, অনেক নদীই তার স্বাভাবিক নাব্যতা হারায়, জলশূণ্য মাটিতে ধরে ফাটল। সেই সাথে বাড়ে ঝড়ের প্রকোপ। কাল বৈশাখী ঝড়ে বাংলার প্রকৃতি এক ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করে। জলোচ্ছাস আর ঘুর্ণিঝড়ের আশঙ্কা বেড়ে যায়। গাছে গাছে বিভিন্ন মৌসুমী ফল দেখা যায়। আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, জামরুল, আনারস, আমড়া, তাল, তরমুজ, বাঙি প্রভৃতি ফলে প্রকৃতি নিজেকে সাজিয়ে তোলে। সে সাথে গোলাপ, বেলী, বকুল, টগর আর জবা ফুলে ছেয়ে যায় বাগান। বাগানে ঝড়ে পরে বকুল, নাগলিঙ্গ প্রভৃতি ফুল।