ফিজিওথেরাপি : হাটুর ব্যথায় করণীয়
প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৪, ২০:৪২
দৈনন্দিন জীবনে কাজ-কর্মে
ব্যহত হওয়ার প্রধান সমস্যা হিসেবে হাটুব্যথা একটি বড়
কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ইহা একটি বার্ধক্যজনিত রোগ। তরুণদের চেয়ে বয়স্ক লোকেরা
এ রোগে বেশি ভোগে থাকেন। এছাড়া মহিলাদের সাধারণত:
৪০ বছরের পর ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হরমোনের
তারতম্যের কারণে অস্থি কনিকা ক্ষয় প্রাপ্ত হয়ে এ রোগ দেখা
দিতে পারে। এমনকি খেলোয়াড়দের খেলাধূলার
সময় ভূল অবস্থানের কারণে
হাটুতে আঘাত পেলে বা
মচকালে অনেক সময় কোমড়ের অসুবিধার জন্যেও হাটু ব্যথা
হতে পারে।
হাটু ব্যথার কারণসমূহ
আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা।
হাড় ক্ষয়জনিত রোগ বা বার্ধক্য জনিত ক্ষয়রোগ।
আঘাত জনিত ব্যথা যেমন- মিনিকাস ইজুরি, নি লিগামেন্ট ইনজুরি এবং মাংসপেশী
টান বা ছিড়ে যাওয়া সম্পর্কিত ইনজুরি।
স্থূলতা ও ওজন বেশি হওয়া।
মাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়া।
হাটুতে ইনফেকশন বা জীবানু দ্বারা সংক্রমিত হওয়া।
হাড় ভেঙ্গে বা ফেটে যাওয়া।
জয়েন্ট বা সন্ধির ডিসলোকেশন বা সরে যাওয়া।
অস্টিওপোরোসিস অর্থ্যাত্ অস্থি পাতলা বা ছিদ্র হয়ে যাওয়া।
আদ্র ও ঠান্ডা পরিবেশের কারণে হাটু ব্যথা হতে পারে।
অনেক সময় পা, গোড়ালী, হিপ এমনকি কোমড়ের ব্যথা হাটুতে আসতে পারে।
ভেরিক্রস ভেইন বা শিরায় রক্ত জমাট বাধা।
স্পোটর্স ইনজুরি।
বংশগত কারণ এবং মহিলাদের মেনোপোজ বা ঋতু চক্র বন্ধ হয়ে গেলে, হরমোনের তারতম্যের কারণে অস্থি কনিকা ক্ষয়প্রাপ্ত হলে।
রোগের লক্ষণ
হাটতে ব্যথা অনুভব হওয়া।
হাটু ও পায়ের আঙ্গুলের জয়েন্ট ফুলে যাওয়া।
হাটুতে লালচে ভাব যা হাত দিলে গরম অনুভতি হওয়া।
হাটু ভাজ করা ও চলাফেরা করতে অসুবিধা।
সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় কিংবা বেশি হাটাচলা করলে হাটুতে ব্যথা অনুভব হওয়া।
সন্ধি বা জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া ও কার্যক্রম ক্ষমতা কমে যাওয়া।
জয়েন্টের জোড় বা শক্তি কমে যাওয়া।
নড়াচড়ায় সময় বা মুভমেন্টের সময় হাটুতে শব্দ অনুভূত হওয়া।
নামাজ পড়তে, পায়খানা ব্যবহার করতে, এমনকি দৈনন্দিন কাজ-কর্ম করতে অসুবিধা হওয়া।
হাটু ডিফরমিটি বা বিকৃতি হয়ে যাওয়া।
খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলা।
হাটু সম্পূর্ণভাবে সোজা করতে না পারা ইত্যাদি।
পরামর্শ
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ মত সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সা, উপযুক্ত ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের এ জটিল ব্যাধি সমূহ নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। হাটুর ব্যথার জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিত্সা খুবই কার্যকরী। তাই একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা সঠিক চিকিত্সা নিলে হাটু ব্যথা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
ডা:সুস্মিতা ঘোষ (পিটি)
পেইন এন্ড ফিজিওথেরাপি স্পেশালিস্ট
পেইন এন্ড ফিজিও সেন্টার
(যমুনা ব্যাংকের উপরে)
বাড়ি ১৭/১, রোড ৬, ধানমন্ডি, ঢাকা