তানোর ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য
প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৪, ২২:০৮
রাজশাহীর তানোর ভূমি অফিসে দেদারসে চলছে অনিয়ম দুর্নীতির কারবার। সেখানে টাকা ছাড়া কোন কাজই স্বাভাবিক নিয়মে হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার খপ্পরে এখানকার সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগে জানান, খারিজ (নামজারি), ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, আরএস বাণিজ্য, খাজনা দাখিল, সিএস, ডিসিআর বাণিজ্য ও ইজারাসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতিদিন সহজ সরল সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
উপজেলার তালন্দ গ্রামের খলিলুর রহমানের দুই একর ক্রয়কৃত সম্পত্তি খাজনা খারিজ করতে গত ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর তানোর ভূমি অফিসে আবেদন করেন। ওই আবেদনের নিষ্পত্তি বা আপোষের ক্ষেত্রে অফিস সহকারী আক্কাছ আলী নামের এক কর্মচারী মিষ্টি খাওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তার দাবিকৃত টাকা দিতে খলিলুর অসম্মতি জানালে পুরো দেড় বছর ধরে তাকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছেন। এ নিয়ে খলিলুর সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবহিত করেও কোন প্রতিকার পাননি। এখানকার দালাল বলে পরিচিত জালাল ও সালাম জানান, ভূমি অফিসে বেশ কয়েক বছর ধরে তারা উঠাবসা করেন বলে অফিসের লোকজন তাদেরকে আলাদা চোখে দেখেন। তারা অফিস সহকারী আক্কাছের নির্দেশে দলিলপ্রতি যুক্তি মোতাবেক পার্টির কাছ হতে টাকা নিয়ে থাকেন। এছাড়া সাধারণ মানুষ খারিজের আবেদন ক্ষেত্রে সচেতন নয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে তাদেরকে এ কাজ করতে হয় বলে গর্ববোধ করেন। এ বিষয়ে অফিস সহকারী আক্কাছের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভূমি অফিসে কি হয় না হয় এ সম্পর্কে শুধু ডিসি স্যার নয়, মন্ত্রণালয় পর্যন্ত জানেন। পত্রিকায় লিখে খামাখা তাদের সঙ্গে শত্রুতা বানানো ছাড়া কোন কাজ হবে না বলে দম্ভোক্তি করেন। এ ব্যাপারে তানোর সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জল কুমার ঘোষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আক্কাছের বিষয়ে মাঝে-মধ্যে মৌখিকভাবে অভিযোগ শোনা যায়। লিখিত অভিযোগ না থাকায় প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না।