হাঁসের খামার করে স্বাবলম্বী কুড়িগ্রামের ছকিমুদ্দি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের পানাতি পাড়া গ্রামের মো. ছকিমুদ্দি। অর্থাভাবে লেখাপড়াও হয়নি। শুধুমাত্র দুমুঠো অন্নের সংস্থান করতে ৪০টি হাঁস দিয়ে খামার গড়ে আজ স্বাবলম্বী তিনি।  সরেজমিনে জানা যায়, অভাব-অনটনের সংসারে জীবিকানির্বাহের তাগিদে ৪০টি হাঁস দিয়ে ছোট আকারে হাঁসের খামার গড়ে তোলেন ছকিমুদ্দি। হাঁস পালন করে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি, এভাবেই শুরু হয় যুবক ছকিমুদ্দির এগিয়ে চলার গল্প। বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। তিন মাস বিরতিহীনভাবে প্রতিদিন হাঁসগুলো গড়ে ডিম দেয় ১০০টি। প্রতিটি ডিম ১২ টাকা হিসেবে প্রতিদিন ডিম বিক্রি করেন প্রায় ১২০০ টাকার। এছাড়া তিন/চার মাস পরপর পরিপক্ব হাঁস প্রতিটি বাজারে বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। হ্যাচারি থেকে হাঁসের বাচ্চা কিনে এনে পালন করে প্রতিটি পরিপক্ব হতে খাদ্য ও ওষুধ বাবদ সর্বসাকুল্যে খরচ হয় প্রায় ১২০ টাকা। খামারি ছকিমুদ্দি জানান, অভাবের সংসারে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে হাঁস পালন করে সচ্ছলতা ফিরেছে।  হাঁসের খামারের আয় থেকে সংসার চালিয়ে গরু কিনেছি, জমি কিনেছি। কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউপি চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন জানান, ছকিমুদ্দির হাঁসের খামার সত্যিই অনুকরণীয়। হাঁস পালন করে নিজে স্বাবলম্বী হয়েছে এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখেই দিন যাপন করছে। তার এই সাফল্য দেখে অনুপ্রাণীত হয়ে আরো হাঁস খামার তৈরি হবে, দূর হবে এলাকার বেকারত্ব এই প্রত্যাশাই করছি। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড: মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, খাল-বিলসহ নদীমাতৃক কুড়িগ্রাম জেলা হাঁস-মুরগি পালনের উপযোগী হওয়ায় ব্যাপক সম্ভাবনাময়। হাঁস পালনের উপযোগী পরিবেশের কারণে অনেকেই নিজ উদ্যোগে খামার গড়ে তুলে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছে তেমনি ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটাচ্ছে এলাকার। আমরা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে পালনকারীদের পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি।