জন্মগত ত্রুটি কোনো অভিশাপ নয়
প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৪, ২২:১৯
সন্তানের জন্মটা স্বজনের কাছে আনন্দের হলেও শিশুর জন্মগত ত্রুটি তার স্বজনের আনন্দটাকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দেয়। শুধু তাই নয়, আমাদের সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার ভূমিষ্ট শিশুর জন্মগত ত্রুটির জন্য প্রসূতি মাকেই অপবাদে জর্জরিত করে। কারণ কুসংস্কার বিশ্বাসীদের ধারণা, হয়তো এটি প্রসূতি মায়েরই কোনো অপকর্মের ফল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকদের মতে, এটি মানবদেহের অন্যান্য সমস্যার মতোই একটা সমস্যা। যা সুষ্ঠু চিকিত্সার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য। এটা কোনোভাবেই কারো অপকর্মের ফল নয় এবং জন্মের পর যত দ্রুত এর চিকিত্সা শুরু করা যায়, শিশুর জন্য এটি ততই মঙ্গল। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, চিকিত্সার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ এবং চিকিত্সার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের অপ্রতুলতার ফলে অনেক অভিভাবকই এসব সমস্যায় সুচিকিত্সার উদ্যোগ নিতে পারেন না। ফলে সামাজিক কুসংস্কারের জাঁতাকলে পিষ্ট হয় শিশুর আগামীর সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত্। শুধু তাই নয়, জন্মগত সমস্যা হিসেবে ঠোঁট কাটা, তালু কাটা এবং মুগুর পা যতটা না স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি করে, তার চেয়ে বেশি কষ্টদায়ক আমাদের সমাজ সৃষ্ট সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। এসব শিশুকে পড়াশোনা, সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে যোগদান করা বা বিয়ে নিয়ে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। শিশুর শারীরিক এ প্রতিবন্ধকতার জন্য শিশুর অভিভাবককেও অনেকক্ষেত্রে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়।
তাই সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান আসুন— ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এ অমর বাণীকে হূদয়ে ধারণ করে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের সুচিকিত্সায় আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই। যা অবশ্যই আমাদের দেশের অগণিত শিশুর মুখে হাসি এবং সাবলীলভাবে চলাফেরার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি সার্বিক শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নকেও ত্বরান্বিত করবে।
কুমিল্লা