দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তুলাচাষে বাড়ছে চাষিদের আগ্রহ

যশোর অফিস

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ফসল তুলা চাষে চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। আর এর সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তুলার নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন, সাথী ফসলের সমন্বয়ে আর্থিক লাভের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।

ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুরের কাগমারী গ্রামের তুলাচাষি আতিকুর রহমান জানান, তিনি এবছর তিনবিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো তুলা চাষ করেছেন। ৪০ হাজার টাকা খরচ বাদ দিয়ে তার নিট লাভ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। আগামী মৌসুমে তিনি তুলা চাষের জমি দ্বিগুণ করবেন। তিনি আরো জানান, তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই তুলা চাষে আগ্রহী হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো তুলা বিক্রিতেও সমস্যা নেই। দামেরও সমস্যা নেই। আগামী জুলাই মাসে তুলার নতুন মৌসুম শুরুর আগে এরই মধ্যে তিনি বরবটি চাষ করেও লাভবান হয়েছেন। যশোরের চৌগাছার হাকিমপুরের মো. আব্দুল আলীম জানান, প্রতিবিঘায় তিনি ১৭ মণ করে ফলন পেয়েছেন।

বিঘাপ্রতি তার লাভ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। হাইব্রিড বীজ সরবরাহ করা গেলে ফলনকে ২৫ মণে উন্নীত করা সম্ভব বলে অভিমত এই তুলা চাষির। কুষ্টিয়ার ধানখোলা গ্রামের মো. আফসারুল হক বলেন, ধানের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক হওয়ায় অনেক চাষি তার দেখাদেখি তুলা চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। চৌগাছার জগদীশপুরের কান্দি পূর্বপাড়ার মো. আব্দুল আহাদ জানান, ধানের চেয়ে তো বেশি, মাছের চেয়েও দ্বিগুণ লাভ তুলায়।

তবে তুলা মিল মালিক (জিনার) কুষ্টিয়ার গোলাম সরওয়ার লাল বলেন, ধানের চাষে তুলনা করে নয়, কুল, বাদাম, পেয়ারা. স্ট্রবেরির মতো অর্থকরী ফসলের সাথে তুলনা করে তুলার হিসাব করতে হবে। এজন্য তুলার নতুন জাত উদ্ভাবন করতে হবে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর অঞ্চলের উপ-পরিচালক জাফর আলী বলেন, এক জমিতে বছরে দুবার তুলা চাষ করা যায়। মাঝখানের বিরতিতে বরবটি, তিলসহ স্বল্পকালীন সময়ের ফসল-সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে—যেন তারা ওই একই জমি ব্যবহার করে আরও বেশি লাভবান হতে পারেন। আবার তুলা গাছের মাঝখানেও অন্যান্য ফসল চাষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, তুলা চাষিদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন জাত উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি ও হাইব্রিড জাত আনার ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।