টালিউডে কাজ করছেন ঢালিউডি শিল্পীরা

গত বছর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা শিল্পে বাংলাদেশি শিল্পীদের নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে। একসময় বাংলাদেশের ফেরদৌস একাধিক ছবিতে কাজ করলেও এখন বাংলাদেশের একাধিক শিল্পী ব্যস্ত রয়েছেন টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। এরই ভিতরে ৬ টি নতুন ছবিতে কাজ শুরু করছেন বাংলাদেশের একাধিক শিল্পী, টালিউডের নিজস্ব প্রযোজনায় তৈরি চলচ্চিত্রে। টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশি শিল্পীদের নিয়ে কাজ করাকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। অনেকে এর বিরোধিতা করলেও শিল্পীরা নিজেদের ক্যারিয়ারের উন্নয়নের কথা ভেবে কাজ করছেন ওদের চলচ্চিত্রে। বর্তমানে কলকাতার পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তীর পরিচালনায় গ্ল্যামার ছবির চরিত্রে কাজ করছেন বাংলাদেশের মডেল অভিনেত্রী দিলরুবা ইয়াসমিন রুহী। এই চলচ্চিত্রে রুহী’র সাথে রয়েছেন কলকাতার অভিনেতা পরমব্রত ও পার্নো মিত্র। ছবিতে বাংলাদেশি নায়িকাকে কাস্ট করা প্রসঙ্গে মহুয়া চক্রবর্তী ফোনে জানান, ‘একজন শিল্পীকে যে কোন নির্মাতা তার গল্পের প্রয়োজন ও অভিনয় প্রতিভা দেখেই সিলেক্ট করেন। রুহি এর আগে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্যাশন প্রতিযোগিতার র্যাম্প মডেল ও কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছে। কলকাতায় অনুষ্ঠিত সেই অনুষ্ঠানে তাকে দেখেই আমি সিলেক্ট করি। আমি মনে করি, দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে কাজ আরো বাড়ানো উচিত। তাতে আমরা নিজেরা সমৃদ্ধ হবার সুযোগ পাবো।’ মাত্র কয়েক মাস আগে কলকাতার একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারেও টালিউড সুপারস্টার প্রসেনজিতের বিপরীতে কাজ করলেন বাংলাদেশের চিত্রনায়িকা নিপুণ। এর পাশাপাশি ‘আবর্ত’ নামে একটি চলচ্চিত্রে কলকাতার আবীর চট্টোপাধ্যায়ের সাথে কাজ করলেন বাংলাদেশের জয়া আহস্ান। এছাড়া আইরিন, বিদ্যা সিন্হা মীম, মিশা সওদাগর, ডনসহ কয়েকজন শিল্পী খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রের শুটিং-এ যাবেন। এসব ছবির কোনোটিই যৌথ প্রযোজনার নয়। তবে টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশি শিল্পীদের কদর বাড়ানো প্রসঙ্গে শিল্পী সমিতির সভাপতি চিত্রনায়ক শাকিব খান বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই এটা বলা যায়, ওরা ওদের বাংলা ছবির বাজারটাকে বাড়ানোর জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের মিশা সওদাগর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী। কিন্তু এখন তিনি কলকাতার ছবিতেই বেশি ব্যস্ত রয়েছেন। আমরা তাকে পাই না। এটাকে আমি বলবো, আমাদের নির্মাতাদের ব্যর্থতা। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’ গুণী অভিনেত্রী জয়া আহস্ান আবীর চট্টোপাধ্যায়ের সাথে টালিউড ‘আবর্ত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে কলকাতায় অনুষ্ঠিত প্রথম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। জয়া আহসান বলেন, এখন হলিউড-বলিউডের তারকারা একসাথে ছবিতে কাজ করছেন। ডিজিটাল বিশ্বে এটা খুব স্বাভাবিক। আমরা টালিউডে ছবিতে কাজ করলে সেই ছবির টেলপে আমার নামের পাশে ‘বাংলাদেশ’ লেখা থাকে। আমাদের যোগ্য মনে করেন বলেই ওখানকার নির্মাতারা তাদের বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে আমাদের কাস্ট করছেন।’ প্রসেনজিতের সাথে ‘পরিচয়’ চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করলেন নিপুণ। খুব শিগগিরই ছবিটি মুক্তি পাবে। নিপুণ বলেন, ‘এটা শিল্পী হিসেবে অবশ্যই সম্মানের। এখন পর্যন্ত কলকাতার তেমন কোনো অভিনেতা আমাদের দেশে কাজ করেননি। অথচ আমাদের দেশের অনেকেই ওখানে কাজ করছি। এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা উচিত।’ টালিউডের একাধিক চলচ্চিত্রে ব্যস্ত মিশা সওদাগর বলেন, আমি অনন্য মামুনের ছবি ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়-এর শুটিং এ কলকাতা গেলে সেখানে আমার কাজ দেখে অনেকেই ছবির জন্য অফার করেন। আমি একজন শিল্পী হিসেবে একটা ভালো স্ক্রিপ্ট বা ভালো প্রডাক্শন দেখলে অবশ্যই সেই ছবিতে কাজ করবো, সেটা যে দেশেরই হোক। আমরা তো বাংলাদেশকেই রিপ্রেজেন্ট করছি।’ তবে শিল্পীর বাইরে কাজ করার ব্যাপারে প্রত্যেক দেশে শিল্পী বা প্রযোজক সমিতির একটি নীতিমালা থাকলেও আমাদের এখানে তা পালন করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রযোজক সমিতির সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, গত বছর আমাদের বরেণ্য অভিনেত্রী শাবানা আপা কলকাতার কোয়েল মল্লিক, জিত্সহ কয়েকজনকে বাংলাদেশে এনে ছবি করার জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু টালিউড ইন্ডাস্ট্রির নীতিমালায় আটকে পড়ে তারা ঢাকায় আসতে রাজি হননি। আমাদের দেশে নিয়ম রয়েছে ঠিকই কিন্তু এর প্রয়োগ নেই। যে কোন দেশে তাদের শিল্পীদের বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে চলচ্চিত্র কর্পোরেশন থেকে একটা অনুমতিপত্র নিতে হয়। ছাড়পত্র দিলেই বাইরে কাজ করতে পারেন। কিন্তু আমাদের এখানে তা হয় না। আমরা নিজেরাও জানি না আমাদের দেশের ক’জন শিল্পী বাইরে কাজ করছেন। আমাদের দেশের শিল্পী হিসেবে এর আগে নায়করাজ রাজ্জাক, ফেরদৌস ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। এ সময়ের অভিনেতা অভিনেত্রী অনেকেই টালিউডি মুভিতে ব্যস্ত রয়েছেন। এটা অবশ্যই সুখবর। বিষয়টিকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। দিনকে দিন টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে আমাদের কদর বাড়ছে।