কয়রায় ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ আতংকে মানুষ
মোহাঃ হুমায়ূন কবির, কয়রা (খুলনা)
প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৪, ২৩:২৮
সামনে বর্ষা মৌসুম। নদীতে জোয়ারের পানি বাড়বে। ইতিমধ্যে বাড়তেও শুরু করেছে। আর সেই সঙ্গে উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের মনে আতংক বেড়ে চলেছে। কারণ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুটি পোল্ডারে কমপক্ষে ২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো হলো- মহারাজপুর ইউনিয়নের লোকা, পূর্ব মঠবাড়ি, দশাহালিয়া, কয়রা সদর ইউনিয়নের গুড়িয়াবাড়ি স্লুইস গেট এলাকা, ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালি, হড্ডা খেয়াঘাট এলাকা, তেঁতুলতলারচর ট্রলার ঘাট এলাকা, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে গাতিরঘেরি, কাশিরহাট ও গাববুনিয়া এলাকা এবং দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের চরামুখা, মাটিয়াভাঙ্গা, জোড়শিং ও ছোট আংটিহারা এলাকা। এর মধ্যে ১৩-১৪/২ নম্বর পোল্ডারে লোকা ও পূর্ব মঠবাড়ি এলাকায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এবং ১৪/১ নম্বর পোল্ডারে ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট, গুড়িয়াবাড়ি স্লুইস গেটের পূর্ব পাশে, চরামুখা, মাটিয়াভাঙ্গা ও ছোট আংটিহারা এলাকার সাত কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে এসব বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
দক্ষিণ বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মান্নান জানিয়েছেন, নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে সেখানে মাটি দিয়ে কোনরকমে উঁচু করে রেখেছেন। সমপ্রতি খাসিটানা এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি।
মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বেল্টু জানান, তার ইউনিয়নের লোকা ও পূর্ব মঠবাড়ি এলাকার পবনা ক্লোজারের উত্তর পাশের বাঁধে ব্যাপক ধস নেমেছে। এ জন্য ওই এলাকার বাসিন্দারা আতংকিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, মঠবাড়ি এলাকা পবনার বাঁধটি আইলায় ভেঙে যাওয়ার দুই বছর পর অনেক প্রচেষ্টায় মেরামত সম্ভব হয়। এ বাঁধের কারণে সে সময় উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম দীর্ঘদিন লোনা পানিতে নিমজ্জিত থাকে। বর্ষা মৌসুমের আগে সেখানে সংস্কার কাজ করা না হলে আবারো বাঁধ ভেঙে পূর্বের অবস্থার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আঃ মতিন বলেন, চলতি অর্থবছরে কয়রা উপজেলার দুটি পোল্ডারের প্রায় ৪৯ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতে মাটির কাজ করা হয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক স্থানে বাঁধে নতুন করে ধস নেমেছে। যে ২১ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ধরা হয়েছে সেখানে বর্ষা মৌসুমের আগেই জরুরিভাবে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীম হাসান জানান, পাউবোর বেড়িবাঁধ সংস্কারের আশু প্রয়োজন ।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ.খ.ম তমিজ উদ্দীন বলেন, চারদিকে নদী পরিবেষ্টিত কয়রা উপজেলার মানুষ সার্বক্ষণিক আতংকে ভোগেন কখন বাঁধ ভেঙে না জানি তাদের জানমালের ক্ষতি হয়। এ জন্য বরাবর এ জনপদের মানুষের দাবি টেকসই পদ্ধতির বেড়িবাঁধ নির্মাণের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অসময়ে অপেক্ষাকৃত লাভজনক স্থানে যেনতেন ভাবে দায়সারা কাজ করেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।