বরিশাল শহরে অতিরিক্ত শিক্ষক, মফস্বলে সঙ্কট

দক্ষিণাঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষকদের বদলিতে চলছে বৈষম্য। প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান শিক্ষকরা ঘুরে ফিরে যুগ যুগ ধরে নগরীর দু’টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে চাকরি করে যাচ্ছেন। প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং ব্যবসার সাথে যুক্ত এসব শিক্ষক মফস্বল বিদ্যালয়ে কখনোই বদলি হন না। বৈষম্যের শিকার অনেক শিক্ষক চাকরি জীবনের শুরু থেকেই মফস্বল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। বেশিরভাগ শিক্ষকই বিভাগীয় শহর বরিশালের দু’টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন। বিভাগের ছয় জেলার ২০টি সরকারি বিদ্যালয়ে চলছে চরম শিক্ষক সঙ্কট। বরিশাল জিলা স্কুলের দিবা শাখায় শরীরচর্চা বিষয়ে শিক্ষকের পদ রয়েছে এক। অথচ সেখানে কর্মরত রয়েছেন তিনজন শিক্ষক। অথচ নগরীর বাইরে ২০ স্কুলের অধিকাংশ স্কুলেই কোন শরীরচর্চার শিক্ষক নেই। অন্যান্য শাখার অবস্থা একইরকম বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। সমপ্রতি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক গ্রামের স্কুলগুলোতে যেখানে অতিমাত্রায় শিক্ষক সঙ্কট সেখানে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য দেশের ৯টি অঞ্চলের উপ-পরিচালকদের নির্দেশ দিয়েছেন। বরিশালের দু’টি সরকারি স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জিলা স্কুলের চারুকলা বিভাগের সহকারী শিক্ষক মাহমুদ চৌধুরী ১৯৯১ সালে এ স্কুলে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত্ তিনি একই স্কুলে কর্মরত রয়েছেন। ঐ প্রতিষ্ঠানে টানা ২৩ বছর কর্মরত আছেন বাংলা শিক্ষক গোপা ভট্টাচার্য। তাকেও কর্মজীবনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বদলি হতে হয়নি। নগরীর অপর সরকারি সদর গার্লস স্কুলের শিক্ষক হালিমা বেগম, অনিমা রানী দাস ও নীলা শাহেদকেও জেলা স্কুলের উল্লিখিত শিক্ষকদের মতই চাকরি জীবনের শুরু থেকে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। রহস্যজনক কারণে তাদেরকে কোথাও বদলি হতে হয়নি। এ বিভাগে এমন ২১ জন প্রভাবশালী শিক্ষক রয়েছেন বলে জানান সরকারি বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র। এসব শিক্ষকরা চাকরি জীবনের শুরু থেকে ১৫ থেকে ২৩ বছর পর্যন্ত বরিশাল নগরীতেই চাকরি করে যাচ্ছেন। জিলা স্কুলের কৃষি বিভাগের একজন শিক্ষককে এক বছরের মধ্যে তিন জেলায় বদলি করা হয়েছে। তার মতো আরো কয়েকজন শিক্ষক বার বার বদলির নামে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। এসব শিক্ষকরা বদলির পর মফস্বলের স্কুলে না থাকতে চাইলে হয়রানি বন্ধ হয় না। শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বদলির জন্য জোরালো চাপ এলে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর শিক্ষকদের নগরীর মধ্যেই জিলা স্কুল থেকে সদর গার্লস স্কুলে এবং সদর গার্লস থেকে জিলা স্কুলে বদলি করে উপরের আদেশ রক্ষা করা হয়। এ ব্যাপারে বরিশাল শিক্ষা পরিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যবহূত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।