ফেসবুক বার্তায় জীবন রক্ষা!
প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৪, ১৯:৪৯
স্রেফ সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবেই নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও যে ফেসবুক কাজে আসতে পারে এবার সেই দৃষ্টান্তই স্থাপিত হলো ভূগোলের অধ্যাপকের জীবনে। জন অল নামের ৪৪ বছর বয়সী এই অধ্যাপক সম্প্রতি পর্বতারোহণ করতে যেয়ে প্রায় ৬০০০ মিটার উঁচু একটি গ্লেসিয়ারের খাদে আটকা পড়েন। এতে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্তও হন জন। কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হবার পাশাপাশি পাজরের পাঁচটি হাড় এবং হাঁটু ও কনুইয়ের হাড় ভাঙা এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে ৪৪ বছর বয়সী এই অধ্যাপকের জীবনও সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। তবে নিজের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অনেক কষ্ট করে আমেরিকান ক্লাইম্বার সায়েন্স প্রোগ্রামের একটি পেজে নিজের অবস্থার কথা জানাতে সক্ষম হন জন। নিজের এক বার্তায় তিনি তার আঘাতের অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি দ্রুত তাকে উদ্ধারের আহ্বান জানান। বলা বাহুল্য, নিজেদের পাতায় এমন আহ্বান দেখতে পেয়ে প্রথমটায় খানিকটা সিদ্ধান্তহীনতাতেই ভুগছিলেন আমেরিকান ক্লাইম্বার সায়েন্স প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্টরা। তবে সে অবস্থা কাটিয়ে দ্রুতই তারা যোগাযোগ করেন স্থানীয় উদ্ধারকারী বিভাগের সাথে। সেই সাথে অধ্যাপক জনকেও টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করতে থাকেন। যদিও সকলের সম্মিলিত চেষ্টা স্বত্তেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাকে উদ্ধারে তাত্ক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টার পাঠাতে ব্যর্থ হয় উদ্ধারকারী দল। এ অবস্থায় নিজের বেঁচে থাকার সংগ্রামের কথা পুনরায় ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে অধ্যাপক জন লেখেন, ‘উদ্ধারকারীরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারছেন না বলে আমাকে আজকের রাতটিও টিকে থাকার চেষ্টা করতে হবে।’ এভাবে প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর জন অলের পাঠানো বার্তার সূত্র ধরে তাকে গ্লেসিয়ারের আটকে পড়া খাদ থেকে উদ্ধার করে কাঠমন্ডুর একটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। এদিকে হাসপাতালে ডাক্তারদের চেষ্টা সংকটমুক্ত জন অল তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যেভাবে তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন সেখানে এই মুহূর্তে স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কোনো কিছুই তার মাথায় আসছে না।