গুরুদাসপুরে কীটনাশক ছাড়াই বাঙ্গি ও তরমুজ চাষ
মো. রাশিদুল ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৪, ২২:০২
নাটোরের গুরুদাসপুরে কীটনাশক ছাড়াই চাষ হচ্ছে বাঙ্গি ও তরমুজ। এখানে এই রসালো ফলে মেশানো হচ্ছে না কোন প্রকার ফরমালিন।
বাজারে ফরমালিনমুক্ত তরতাজা এই বাঙ্গি-তরমুজের চাহিদা বেশি। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করা হচ্ছে। গত ৭ বছর ধরে এখানে অনেকটা নীরবে আবাদ হলেও এখন তার পরিধি বেড়েছে। বিঘাপ্রতি ৫০-৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করছে কৃষক। এলাকায় এটা সাথি ফসল হিসেবে পরিচিত।
চাষ পদ্ধতি: বাঙ্গি ও তরমুজ চাষ করার জন্য আলাদা করে জমির দরকার হয় না। রসুন চাষের জমিতেই তরমুজ আর বাঙ্গির বীজ বপন করা হয়। রসুন উঠে যাওয়ার পরই বাঙ্গি-তরমুজের গাছ ছড়িয়ে পড়ে। তখন সামান্য সেচ দিতে হয়। কীটনাশকের বদলে জৈব (গোবর) সার দিয়ে যত্ন করলেই গাছে গাছে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে। চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বাঙ্গি ও তরমুজ তুলতে শুরু করে কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, গুরুদাসপুরে এ বছর সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি আর ৫৬০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। একই জমিতে বিঘা প্রতি ৫-৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বাঙ্গি আর তরমুজের চাষ করছে এ অঞ্চলের কৃষক। এতে করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে তারা। তাছাড়া এ মৌসুমে প্রখর রোদ আর গরমের কারণে বাঙ্গি ও তরমুজের চাহিদা অনেক বেশি। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলার সিধুলী গ্রামের কৃষক বিমল ৭ বছর আগে রসুনের ক্ষতি পুষাতে সাথি ফসল হিসেবে বাঙ্গি আর তরমুজ আবাদ শুরু করেন।
কৃষক বিমল, আজিজ সরকার ও রবিউল করিম জানান, মূলত রসুনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই তারা সাথি ফসল হিসেবে তরমুজ-আর বাঙ্গির আবাদ শুরু করেছিলেন। রসুন উঠানোর পর পতিত জমিতে বাঙ্গি-তরমুজের গাছ ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সেচ ছাড়া তারা জমিতে কোন কীটনাশক ব্যবহার করেন না। প্রতিষেধক হিসেবে গোবর সার ব্যবহার করেন। কীটনাশক ব্যবহার না করায় এসব ফলের আকার, রং এবং স্বাদ পরিবর্তন হয় না। বাজারে চাহিদাও অনেক। গুণগত মানের কারণে স্থানীয় ক্রেতাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা ক্ষেত থেকে তরতাজা ফল ট্রাক ভরে কিনে নিয়ে যান। এ কারণে উত্পাদিত ফলে কোন ফরমালিন ব্যবহার করতে হয় না।
বিপণন: মহাসড়কের (বনপাড়া-হাটিকুমরুল) পাশে, গ্রামীণ সড়কের মোড়ে মোড়ে, কৃষকের উঠান আর হাট বাজারে ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ আর বাঙ্গি। আবার দূরের ব্যাপারিরা ট্রাক ভরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এখানকার বাঙ্গি-তরমুজ। অনেকে আবার ক্ষেত থেকে তুলেই ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন দূরের মোকামে।
যশোর থেকে আসা মাসুদ পারভেজ নামে একজন ব্যাপারি জানান, এখানকার উত্পাদিত ফলে কীটনাশক ও ফরমালিনের ব্যবহার না করায় গুণগতমান অন্য এলাকার বাঙ্গি-তরমুজের চেয়ে বেশি। গত তিন বছর ধরে তিনি ঢাকার কাওরান বাজারে নিয়ে এগুলো বিক্রি করেন। তিনি আরও জানান, আকার ভেদে প্রতিটি বাঙ্গি ১০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় কিনে তা ঢাকায় তিনি বেশি দামে বিক্রি করেন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, গুরুদাসপুরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫-২০টি ট্রাকে তরমুজ-বাঙ্গি লোড করা হয়। এ অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ টাকার বাঙ্গি সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, রসুনের জমিতে বাড়তি ফসল হিসেবে বাঙ্গি-তরমুজ আবাদ করায় সার ব্যবহার হয় না। উত্পাদিত ফলে ফরমালিনও ব্যবহার হয় না। এজন্য মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।