কুমিল্লায় জাতীয় কবির স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে যাচ্ছে

কুমিল্লায় স্মৃতি ফলকের পাশেই তৈরি হয়েছে ডাস্টবিন শিবালয়ে নজরুল গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি আজ এগারোই জ্যৈষ্ঠ পঁচিশে মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৫তম জন্মজয়ন্তী। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও স্থানীয় প্রশাসন ও নজরুল প্রেমীদের উদ্যোগে আজ থেকে কুমিল্লা মহানগরী ও মুরাদনগরের কবিতীর্থ দৌলতপুরে ৩ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু যাকে ঘিরে প্রতিবছর জন্মজয়ন্তীতে এতো আয়োজন সেই কবির স্মৃতি রক্ষায় নেই যথাযথ সরকারি উদ্যোগ। প্রতিবছর কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে কবির স্মৃতিরক্ষায় নজরুল প্রেমীদের অনেক প্রতিশ্রুতি ও তত্পরতা দেখা গেলেও পরে কবির স্মৃতিচিহ্ন রক্ষা কিংবা সংরক্ষণে নেয়া হয় না কোন কার্যকর পদক্ষেপ। সংরক্ষণ আর সুষ্ঠু তদারকি নজরদারির অভাবে কুমিল্লায় আমাদের মহান কবির অনেক স্মৃতিচিহ্ন এখন খুঁজে বের করা কষ্টসাধ্য। কুমিল্লায় গোমতীর এপারে প্রমীলা, ওপারে নার্গিস। নজরুল হূদয়ের দুই সারথী। এ দু’জনকে ঘিরে নজরুলের প্রেম আর বিরহের অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত কেটেছে কুমিল্লা মহানগর ও মুরাদনগরের দৌলতপুরে। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বহুল স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লা মহানগর ও দৌলতপুরে অনেক স্মৃতিচিহ্ন বিলুপ্তির পথে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, নগরীর নজরুল অ্যাভিনিউ ও ভিক্টোরিয়া কলেজের পাশে রানীর দীঘির পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে কবির দুটি স্মৃতিফলকের পাশে এখন রয়েছে ডাস্টবিন। এমনই ধৃষ্টতা ও অযত্ন-অবহেলায় কুমিল্লা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাজী নজরুলের স্মৃতিচিহ্নগুলো। জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম ১৯২১ সাল থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা আসেন পাঁচবার। কবি কুমিল্লায় অবস্থান করেন মোট প্রায় এক বছর। কবির বিয়ে থেকে শুরু করে দু’দফা গ্রেফতার হন এ কুমিল্লায়। প্রমীলা দেবীর বাড়ি, ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ে কবিতা-গানের আসর, বসন্ত স্মৃতি পাঠাগার, ঝাউতলায় গ্রেফতার হওয়া, নানুয়া দীঘির পাড়, দারোগাবাড়ি, ইউছুফ স্কুল রোড, মহেশাঙ্গন, কুমিল্লা বীরচন্দ্রনগর মিলনায়তন ও মাঠ, দক্ষিণ চর্থায় নবাববাড়ি, শচীন দেব বর্মনের বাড়ি, ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ি, নজরুল অ্যাভিনিউ, কান্দিরপাড়, ঝাউতলা, রানীর দীঘির পাড়, রেল স্টেশন, কোতোয়ালী থানা, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং মুরাদনগরের দৌলতপুরসহ কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্নস্থানে কবির স্মৃতিচিহ্ন ছড়িয়ে রয়েছে। ১৯২১ সালের এপ্রিল মাসে কবির প্রথম আগমন ঘটে জেলার মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে, এ গ্রামেরই কবির বন্ধু আলী আকবর খানের আমন্ত্রণে। এ সময় আলী আকবর খানের বোনের মেয়ে সৈয়দা নার্গিস আরা খানমের মাঝে কবি তাঁর মানসীর ছবি খুঁজে পান। দু’জন-দু’জনার কাছাকাছি আসেন। প্রেম পল্ল¬বিত হয়ে প্রণয়ে পরিণত হয়। কবি নার্গিসকে একই বছর ১৭ জুন বিয়ে করেন, যা ছিল তাঁর জীবনের প্রথম বিয়ে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কবি বাসর রাতেই দৌলতপুর ছেড়ে কুমিল্লা শহরে চলে আসেন। শহরে কবি ইন্দ্রকুমার সেনের বাসায় অবস্থান করেন। দৌলতপুরে কবির সঙ্গে নার্গিসের বিয়ে স্থায়ী না হলেও শহরে কবি ইন্দ্রকুমার সেনের বাসায় অবস্থানকালে তার ভ্রাতৃজায়া গিরীলা দেবীর একমাত্র কন্যা আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে প্রমীলার সঙ্গে পরিচয় প্রেম এবং তারপর ১৯২৪ সালের ২৫ এপ্রিল শুক্রবার কলকাতার ৬নং হাজী লেনে তাদের বিয়ে হয়। কবি দ্বিতীয়বার কুমিল্লায় আসেন ১৯২১ সালের নভেম্বর মাসে। এ সময়ে তিনি ব্রিটিশবিরোধী অন্দোলনের কারণে গ্রেফতার হন। ১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর শহরের ঝাউতলা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেফতার হন কবি। সর্বশেষ কবি পঞ্চমবারের মতো কুমিল্লায় আসেন ১৯২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পরই। এ ছিল তার কুমিল্লায় শেষ আসা। কবি নজরুল আর নার্গিসের বিচ্ছেদ হলেও ১৫ বছর অপেক্ষার পর কলকাতা থেকে তার তালাকনামা এনে নার্গিস পরে কবি আজিজুল হাকিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮৩ সালে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহে তত্কালীন জেলা প্রশাসক হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীর উদ্যোগে জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তায় শ্বেতপাথরের ফলক লাগানো হয়। এসব ফলকে কবির গান, কবিতা ও বাণী তুলে ধরা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কুমিল্লায় নজরুল স্মৃতিগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ১৯৬২ কুমিল্লার তত্কালীন জেলা প্রশাসক কবি আবু জাফর ওবায়দুল্ল¬াহ কুমিল্লার কান্দিরপাড়-ধর্মপুর রেলস্টেশন সড়কটিকে নজরুল অ্যাভিনিউ’ নামকরণ করেন। শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের পাশে যেখানে প্রমীলা দেবীর বাড়ি ছিল সেখানেও চোখে পড়ার মতো কোন স্মৃতিচিহ্ন নেই। তবে প্রমীলার বাড়ি ও পুকুরপাড় থেকে স্মৃতিফলক উঠিয়ে এনে রাস্তার বিপরীত পাশে ফরিদা বিদ্যায়তনের সামনে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এর অদূরে বসন্ত স্মৃতি পাঠাগার ছিল, যেখানে কবি কবিতা লিখতেন, আড্ডা দিতেন। সেখানে নজরুলের একটি স্মৃতিফলক থাকলেও এর পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে ডাস্টবিন, যা কখনোই কুমিল্লার নজরুল প্রেমীদের চোখে পড়েনি। শহর থেকে গ্রেফতারের পর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন কবি, কিন্তু সেখানেও নেই কবির কোন স্মৃতিফলক। স্মৃতিফলক নেই কুমিল্লা রেলস্টেশন ও কোতোয়ালী থানাতেও। ভিক্টোরিয়া কলেজের পাশে রানীর দীঘির পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে যেখানে বসে কবি গান গাইতেন ও কবিতা লিখতেন সেখানে একটি স্মৃতিফলক রয়েছে। সেখানেও রয়েছে আরও একটি ডাস্টবিন। দক্ষিণ চর্থায় বর্তমান সরকারি হাঁস-মুরগি খামারের পাশে উপমহাদেশের খ্যাতনামা সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মনের যে বাড়িতে বসে কবি সঙ্গীত চর্চা করতেন সেখানে ১৯৮৩ সালের ২৯ আগস্ট ‘নজরুল স্মৃতিরক্ষা পরিষদ’ নামে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করলেও কবি কিংবা শচীন কর্তার স্মৃতিরক্ষায় সেই বাড়িটি সংস্কার তো দূরের কথা, সাপ-বিচ্ছুর ভয়ে দিনের বেলায়ও কেউ সেখানে যেতে সাহস পায় না। ইট-সুরকির আস্তর খসে পড়ছে। মুরাদনগরের দৌলতপুরে নজরুল-নার্গিসের স্মৃতিচিহ্ন, বাসর রাতের পালঙ্ক সংরক্ষণ, পিকনিক কর্নার তৈরি, নজরুল গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার আশ্বাস প্রতিবছর প্রশাসন ও নজরুল প্রেমীদের নিকট থেকে দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু আজও এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। তবে আশার কথা হচ্ছে, কুমিল্লা মহানগরীর ধর্মসাগরের উত্তর পাড়ে নির্মাণ করা হয়েছে কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘নজরুল ইনস্টিটিউট’। এতে নজরুল গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ অর্থাত্ ২৫ মে থেকে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লা শহর ও মুরাদনগরের কবিতীর্থ দৌলতপুরে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে রয়েছে ২৫ মে রবিবার সকাল ৯টায় শিল্পকলা একাডেমিতে চেতনায় নজরুল প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, বিকালে কুমিল্লা টাউন হল বীরচন্দ্রনগর মিলনায়তনে নজরুল জন্মবার্ষিকীর শুভ উদ্বোধন এবং ‘নজরুল এবং অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দ্বিতীয় দিন ২৬ মে সোমবার বিকালে জেলার মুরাদনগরে কবিতীর্থ দৌলতপুরে আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তৃতীয় দিন ২৭ মে মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লা টাউনহল বীরচন্দ্রনগর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ। এদিকে নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। বাবুল আকতার মঞ্জুর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, জাতীয় কবির ১১৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শিবালয় উপজেলার তেওতা গ্রামে আজ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। কবিপত্নী প্রমীলা’র জন্মস্থান তেওতায় এ দিবস পালনের জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন দিবসটি পালনে দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে। সকালে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনূষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। নজরুল সাহিত্য সংগ্রহ ও গবেষণার জন্য ২০০৮ সালে তেওতায় গড়ে উঠা প্রথম সংগঠন নজরুল-প্রমীলা ইনস্টিটিউট, নজরুল-প্রমীলা পরিষদ, নজরুল-প্রমীলা সাহিত্য পরিষদ, নজরুল-প্রমীলা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী নামে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। কবি কাজী নজরুল তেওতার তত্কালীন জমিদার কিরণ শংকর রায়ের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এ কারণে নজরুল জমিদারের আমন্ত্রণে ১৯২২,’২৬ ও ৩৮ সালে তেওতায় আসেন। ১৯০৮ সালে ১০ মে প্রমীলা এ গ্রামের বাসিন্দা ও ত্রিপুরা এস্টেটের জমিদারের নায়েব বসন্তকুমার সেনগুপ্তের ওরসে জন্মগ্রহণ করেন। প্রমীলা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে লেখাপড়াকালে পিতাকে হারান। ব্রিটিশ শাসনামলে কোর্ট ইন্সপেক্টর কাকার সাথে প্রমীলা ও মাতা গিরিবালা সেনগুপ্ত কুমিল্লায় চলে যান। নজরুল-প্রমীলা’র বিয়ের পর তেওতার এ জমিদারের আমন্ত্রণে উভয়ে তেওতায় বেড়াতে আসেন। নজরুল তেওতা ছাড়াও রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক বন্ধু-বান্ধবের আমন্ত্রণে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আসেন। তেওতায় জমিদার বাড়িতে অবস্থানকালে নজরুল শানবাঁধা পুকুরে সাঁতার কেটে স্নান করেছেন। পুকুর ঘাটে, বাগানে বসে তিনি বিভিন্ন গান, কবিতা ও অন্য সাহিত্য রচনা করেন। ‘লিচু চোর’ কবিতা তিনি এ বাড়িতে লেখেন। তেওতার পাশ দিয়ে বয়ে চলা যমুনা ও নিকটবর্তী পদ্মার রূপ বর্ণনায় অনেক গান রচনা করেন। ‘পদ্মার ঢেউরে...’ ‘আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরী’ ইত্যাদি গান অন্যতম। স্থানীয় সিনিয়র শিক্ষক অজয় চক্রবর্তী জানান, কবির লেখা ’ছোট হিটলার’ বইয়ে তেওতায় তাঁর শ্বশুরবাড়ির বর্ণনা পাওয়া যায়। নজরুল-প্রমীলা ইনস্টিটিউট সভাপতি সাংবাদিক বাবুল আকতার মঞ্জুর জানান, কবি ও পত্নী প্রমীলা’র স্মৃতিবিজড়িত তেওতা জমিদার বাড়ির বিভিন্ন স্থাপনা অযত্ন-অবহেলায় বিনষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি সহযোগিতায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১ বছর আগে তেওতা জমিদারবাড়ির সুদৃশ্য ‘নবরত্ন মঠ’ সংস্কার করে। এছাড়া এ বাড়ির একটি দালানের দু’টি কক্ষে তেওতা ইউনিয়ন ভূমি অফিস থাকলেও প্রায় ৩০ বিঘা জমির উপর নির্মিত সুবিশাল ভবন, বাগান, পুকুর ও অন্যান্য স্থাপনা ক্রমেই বিনষ্ট হচ্ছে। নজরুল গবেষক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আরিচা ঘাটের দেড় কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত তেওতা গ্রামে দূর-দূরান্তের নজরুল ভক্ত-অনুরাগী, সাহিত্যপ্রেমীসহ বহু দর্শনার্থী আসেন। এখানে নজরুল-প্রমীলা মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জোর দাবি উঠেছে। শিবালয়ের ইউএনও একেএম গালিব খান জানান, তেওতায় নজরুলের ভাস্কর্য, গবেষণা ইনস্টিটিউট, মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি স্থাপনা নির্মাণের দাবি উঠেছে। ইতিমধ্যে জমিদার বাড়ি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নিকট হস্তান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।