শ্রীমঙ্গলে চায়ের নিলাম কেন্দ্র স্থাপনে ধীর গতি

বলা হয়ে থাকে চা-এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল। আর চায়ের নিলাম বাজার শ্রীমঙ্গলে স্থাপনের লক্ষ্যে বহু আগে থেকেই সিলেটবাসী দাবি জানিয়ে আসলেও আজও সে দাবি পূরণ হয়নি। সরকারের সিদ্ধান্তের পরও নানা কারণে ধীর গতিতে এগোচ্ছে শ্রীমঙ্গলে নিলামকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি। এ নিয়ে সিলেট অঞ্চলের ব্যবসায়ী মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দেশের ছোট-বড় ১৬৪টি চা বাগানের মধ্যে ১৩৭টি সিলেট বিভাগে। এর মধ্যে ৯২টি বাগানই শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারে। বাকীগুলো চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড়ে। বৃহত্তর সিলেটের বাগানগুলোর উত্পাদিত চা নিলামের জন্য নিয়ে যেতে হয় চট্টগ্রামে। এতে ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ ও ভোগান্তি হয়। ২০১১ সালে নিলাম বাজারের জন্য সিলেটবাসী সোচ্চার হলে বাজারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চা-বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল সফর করেন। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা শেষে সরকারের নিকট শ্রীমঙ্গলে নিলাম বাজারের ব্যাপারে ইতিবাচক রিপোর্ট পেশ করে তদন্ত টিম । তারপরও বিষয়টি আটকে থাকে। এর পর ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীমঙ্গল সফরে এসে নিলামকেন্দ্রটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। কিন্তু এর পরও এর কোন অগ্রগতি নেই। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি মহলের অনাগ্রহ ও গড়িমসির কারণে শ্রীমঙ্গলে নিলাম কেন্দ্র স্থাপন বিলম্বিত হচ্ছে। মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ. হবিগঞ্জের চেম্বার নেতৃবৃন্দ বলেছেন, শ্রীমঙ্গলে নিলাম কেন্দ্র হলে সরকার প্রতিবছর ৩০ কোটি টাকার অপচয় থেকে রক্ষা পাবে। বাংলাদেশের চা এখন আর রপ্তানি হয় না । এমনকি বিদেশি ক্রেতাও আসেন না নিলাম বাজারে। এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় চা বাগানগুলোর উত্পাদিত পণ্য নিলামের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর যৌক্তিকতা নেই-এমনই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তারা বলেছেন, চট্টগ্রামেও একটি নিলাম কেন্দ্র থাকতে পারে। চা-উত্পাদনের সাথে সংশ্লিষ্টরা ক্ষোভের সাথে বলেছেন, সিলেটের উত্পাদিত চা, চট্টগ্রামে নিলামে পাঠাতে ৫-৬ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া করতে হয়। এতে বছরে অতিরিক্ত খরচ হয় ১০ কোটি টাকা।