থেরেসা মের পদত্যাগ ঘোষণা

ব্রেক্সিট-বিপাক হইতে ব্রিটেনকে উত্তরণের পথ দেখাইতে ব্যর্থ হইয়া গত শুক্রবার  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়িবার ঘোষণা দিয়াছেন থেরেসা মে। অবশ্য নিজ দলের ভিতরে চূড়ান্ত অগ্রহণযোগ্য হইয়া পড়িবার কারণে গত কিছুদিন ধরিয়া এমনই ধারণা করা হইতেছিল। মের ঘোষণা আসিতে দেরি মাত্র, রবিবার পর্যন্ত ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির মোট আটজন নেতা দলের নেতৃত্ব তথা প্রধানমন্ত্রী পদ অধিকারে লইবার লড়াইয়ে শামিল হইবার ঘোষণা দিয়াছেন। ধারণা করা হইতেছে, ব্রেক্সিট ইস্যুটিকে ঘিরিয়া ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এইবার সর্বোচ্চমাত্রায় পৌঁছাইবে।

থেরেসা মের স্থলাভিষিক্ত হইবার বাসনাকারীদের মধ্যে ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে একাধিক মত রহিয়াছে। উদাহরণস্বরূপ, সাবেক বিদেশমন্ত্রী বরিস জনসন, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অফ কমন্সের সাবেক নেতা অ্যান্ড্রিয়া লিডসম, সাবেক ব্রেক্সিট সেক্রেটারি ডমিনিক রাব ও সাবেক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এসথার ম্যাকভি-এর মতো নেতারা যে কোনোভাবেই হউক আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করিবার পক্ষে। এই নেতারা ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়িয়া আসিবার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হওয়া বা না হওয়া লইয়া সময়ক্ষেপণে অনিচ্ছুক। ইহাদের মধ্যে বরিস জনসন জনমতের দিক হইতে অন্য সকলের চাইতে অগ্রগামী; কিন্তু কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকেই জনসনকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখিতে অনিচ্ছুক। জনসনের উগ্র জাতীয়তাবাদী কথাবার্তা দলের জন্য ক্ষতিকর বলিয়া তাঁহারা মনে করেন। ইইউ-এর সহিত রফার ভিত্তিতে ব্রেক্সিটের পক্ষপাতী নেতাদের মধ্যে আছেন পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গ্রোভ, বিদেশমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ররি স্টুয়ার্ট, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানককের মতো নেতারা। তবে তাঁহাদের মধ্যেও ব্রেক্সিট বিষয়ে মতভেদ রহিয়াছে। ইহাদের কেহ কেহ মনে করিতেছেন যে, দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করিতে না চাহিলে দ্বিতীয় দফা গণভোট করিয়া ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত লওয়াটাই যৌক্তিক হইবে। আবার অন্যদের মতে, গণভোটের ফল বিপক্ষে গেলে দল ক্ষমতা হইতে সরিয়া যাইতে বাধ্য হইবে। এতসব মতানৈক্যের মধ্যে কোনো ব্যক্তিই যে সহসা ঐক্যের প্রতীক হইয়া কনজারভেটিভদের রক্ষা করিতে পারিবেন তাহা মনে হইতেছে না।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীনদের অন্তর্দ্বন্দ্বের বিপরীতে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রহিয়াছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। থেরেসা মের পদত্যাগের পরপর নূতন একটি সাধারণ নির্বাচনের আহ্বান জানাইয়াছেন লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন। উল্লেখ্য, জনমত জরিপে অনেক দিন ধরিয়াই কনজারভেটিভ পার্টির তুলনায় বেশ আগাইয়া আছে লেবার পার্টি। তবে ব্রেক্সিট বিষয়ে লেবার পার্টির ভিতরেও ভালোরকমের মতভেদ বিরাজ করিতেছে। বিশেষ করিয়া লেবার পার্টির এমপিদের বড় একটি অংশের সহিত  ব্রেক্সিট  প্রসঙ্গে অন্যান্য নেতার মতানৈক্য প্রকট হইয়া উঠিয়াছে অনেকদিন যাবত্। এমতাবস্থায় এই দুই অংশের গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে থাকিয়া ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে করবিন কতদূর অগ্রসর হইতে পারিবেন তাহা একটি বড় প্রশ্ন বৈকি।