গুজরাটের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেল

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আনন্দিবেন প্যাটেল। তিনি গুজরাটের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। রাজ্যের গভর্নর কামলা বেনিওয়াল তাকে শপথ পাঠ করান। গান্ধীনগরের জনাকীর্ণ মহাত্মা মন্দিরে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ সময় মঞ্চে ছিলেন তার পূর্বসূরী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে ছিলেন বিজেপির প্রেসিডেন্ট রাজনাথ সিং, এল কে আদভানী, এমএম যোশী ও অরুণ জেটলি। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে ১৩ বছর অধিষ্ঠিত থাকার নরেন্দ্র মোদী পদত্যাগ করেন। অতঃপর দলের নীতিনির্ধারকরা ৭২ বছর বয়সী আনন্দিবেন প্যাটেলকে গুজরাটের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেন। তিনি গুজরাটের রাজস্ব মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মোদীর দীর্ঘ নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে তিনি রাজ্য সরকার পরিচালনায় গঠিত মন্ত্রিপরিষদের প্রধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে সুপরিচিত। তার ভাবমূর্তি কঠোর ও গুরুগম্ভীর। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর আনন্দিবেন প্যাটেল বলেন, আজ আমাদের প্রিয় নেতারা যখন দিল্লি যাচ্ছে তখন আমাদের এক চোখে অশ্রু আর আরেক চোখে আনন্দ। আনন্দ এ কারণে যে, তারা লাখ লাখ ভারতীয়ের অশ্রু মুছে দিতে দিল্লি যাচ্ছেন। আমি নরেন্দ্র মোদীকে সার্বিক শুভকামনা জানাই। মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়ে মোদী বলেন, তিনি কঠোর পরিশ্রমী একজন মন্ত্রী। তিনি তার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। আমি নিশ্চিত যে, গুজরাট উন্নয়নের পথেই অগ্রসর হতে থাকবে। মোদী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অনেক বছর আগে থেকেই আনন্দিবেন প্যাটেল মোদীর পাশে আছেন। ’৯০-এর মাঝামাঝি অন্য নেতাদের সঙ্গে বিরুদ্ধতার জন্য যখন মোদীকে গুজরাট রাজ্যের রাজনীতি থেকে বহিষ্কার করা হয় তখনও তার পাশে ছিলেন আনন্দিবেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পদচারণায় মোদীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ২০১২ সালে আহমেদাবাদের ঘাটলোদিয়া আসন থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। জয়ী হন ১ লাখ ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে। সহকর্মীদের মতে তার সব থেকে বড় দুর্বলতা হলো— দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঘাটতি ও তাদের নাগালের বাইরে অবস্থান।