প্রধানমন্ত্রীকে টোকিওতে লালগালিচা সংবর্ধনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের আমন্ত্রণে চার দিনের এক সরকারি সফরে গতকাল রবিবার টোকিও পৌঁছলে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট হানেদা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে স্থানীয় সময় বেলা ১টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা) অবতরণ করে। জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিমান বন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে আকাসাকা প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরের পুরো সময়টি টোকিওর মিনাটোয় অবস্থিত এ প্রাসাদের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা মটোআকাসাকায় অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আকাসাকা প্রাসাদে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল প্রধান শিজেউকি হিরোকি। হানেদা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে আকাসাকা প্রাসাদে যাওয়ার পথে বিমান বন্দর সড়কের উভয়পাশে দু’দেশের জাতীয় পতাকা, ফেস্টুন ও ক্ষুদ্র পতাকা দিয়ে সাজিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত এবং ঢাকা-টোকিওর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে শুভ কামনা জানানো হয়। জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশের নাগরিকদের একটি বড় অংশ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমান বন্দরে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল প্রথম প্রহরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। ঢাকা-টোকিও চমত্কার সম্পর্ক লালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল জাপানে বাংলাদেশের বন্ধু এবং ঢাকায় নিযুক্ত টোকিও’র সাবেক রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক সুসংহত করতে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। বৈঠক শেষে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও জাপান এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যকার চমত্কার সম্পর্ক লালনের জন্য বন্ধু ও রাষ্ট্রদূতদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে আপনাদের অবদান কখনো শোধ হবে না। আপনারা আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু এবং আমাদের হূদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশেষভাবে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যকার সম্পর্ক সুসংহত করতে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী জাপানের শ্রদ্ধাভাজন বন্ধুদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। আকাসাকা প্যালেসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশের মহান বন্ধু এবং জাপানে বাংলা ভাষা, দর্শন ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রচারক প্রফেসর তুশোয়োশি নারা’র বিধবা স্ত্রী মিসেস নারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর তাকাশি তুশোয়োশি নারা, তাকাশি হায়াকাওয়া ও জেনারেল ফুজিওয়ারা’র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘তারা চলে গেছেন, কিন্তু তারা চিরকাল আমাদের হূদয়ে জাগ্রত থাকবেন এবং তাদের অবদান সবসময় বাংলাদেশের মানুষকে প্রেরণা জোগাবে।’ বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকারী জাপানের অনেক রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে তাঁর আলাপ-আলোচনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক মজবুত করতে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার স্বাধীনতার চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ও বহুমত সহিষ্ণু সমাজ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ করে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিদ্যুত্ উত্পাদনে জাপানকে আমাদের পাশে চাই—আমরা জাপানের সমর্থন চাই।’ অনুষ্ঠানে প্রয়াত অধ্যাপক নারা এবং অন্যান্য জাপানী প্রয়াত বন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।