ইসলামপুরে দেশি-বিদেশি পোশাকের বিপুল সম্ভার

মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উত্সব ঈদুল ফিতরকে ঘিরে পুরান ঢাকার ইসলামপুরের পাইকারি বাজারে জমজমাট বেচাকেনা হলেও খুচরা বাজারে মন্দা যাচ্ছে। ঈদকেন্দ্রিক সারা দেশের ক্রেতার বাড়তি চাহিদা যোগান দিতে তাদের স্থায়ী বিনিয়োগের সঙ্গে বাড়তি বিনিয়োগও করতে হয়েছে। ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে মাস দুয়েক আগেই তারা ব্যবসার পরিধি বুঝে এই বিনিয়োগ করেছেন। ব্যবসায়ী জানান, সারা বছরই ইসলামপুরের এই বাজার চালু থাকে। ঈদকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশাল বেচাকেনা শুরু হয়। শবেবরাতের পরই পুরোদমে জমে ওঠে এই বাজার। ক্রেতারা ঈদকে কেন্দ্র করে ৩ থেকে ৪ বার মালের জন্য আসেন। তবে তাদের খুচরা দোকানগুলোতে বিক্রি নেই। তাই তারা নতুন মালের জন্য কোনো অর্ডার দিচ্ছেন না।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখানকার সবচেয়ে ছোট পাইকারি ব্যবসায়ীও ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা এবং মাঝারি ধরনের পাইকার দেড় থেকে তিন কোটি এবং বড় পাইকাররা ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে অতিরিক্ত পুঁজি খাটিয়েছেন। দোকান ও বিনিয়োগভেদে প্রত্যেকেই ১ থেকে ৫ লাখ পিস পোশাক বিক্রির আশা করছেন এবারের ঈদে। এর জন্য সংগ্রহ করেছেন দেশি-বিদেশি উন্নতমানের কাপড়, সুতা, রং ও অন্যান্য সামগ্রী। কেউ কেউ নিজস্ব কারখানায় উত্পাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করেও দোকানে উঠিয়েছেন নজরকাড়া ডিজাইন ও হরেক নামের বাহারি শাড়ি, থ্রিপিস, টুপিসসহ নানা সামগ্রী। আবার সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আকারেও এনেছেন বেশ পরিবর্তন। গত কয়েক বছর ধরে লং থ্রিপিস ও প্রিন্টের কাপড়ের প্রচলন ছিল। এবার বাজার দখল করেছে সেমি-লং থ্রিপিস।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দোকানগুলো সাজানো হয়েছে নানা ডিজাইনের প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি, গেঞ্জি ও থ্রিপিস দিয়ে। দামে কম ও কাপড়ের গুণগতমান ভালো থাকায় পাইকারি ক্রেতারাও লুফে নিচ্ছেন তৈরি পোশাক।

ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নেছার উদ্দিন মোল্লা ইত্তেফাককে বলেন, এবছর দেশীয় পোশাকের চাহিদা বেশি। সরকারি সংস্থার তত্পরতা ও চোরাকারবারিরা বিদেশি পোশাক আনতে না পারায় গতবারের তুলনায় এবছর বিক্রি বেড়েছে। দোকান মালিকরা ব্যস্ততম সময় পার করছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবারের বেচাকেনায় আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবো।