বাজেটের দিকে তাকিয়ে শেয়ার বিনিয়োগকারীরা
প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৪, ২৩:১৮
শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা তাকিয়ে আছেন আসন্ন ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের বাজেটের দিকে। বাজার ধসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগামী বাজেটে বিনিয়োগকারীরা কিছু সুবিধা চাইছেন। এর মধ্যে রয়েছে লভ্যাংশের উপর উেস কর প্রত্যাহার করা, শেয়ার হোল্ডারদের আয়ের উপর কর অব্যাহতির সীমা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, শেয়ার বাজার বিনিয়োগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার বিগত সময়ে কিছু পদক্ষেপ নিলেও এর সুফল সবাই সঠিকভাবে পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুবিধা এখনো বিনিয়োগকারীরা পাননি। বাজেটের মাধ্যমে সুযোগ দেয়া হলে তা সব বিনিয়োগকারীকে স্বস্তি দেবে, বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগামী বাজেটে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, শেয়ার বাজারবান্ধব বাজেট করার জন্য সরকার এ সুপারিশগুলো আমলে নিতে পারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে বাজারের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির এক বছরের জন্য ১৫ শতাংশ কর রেয়াতের সুবিধা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে এক লাখ টাকার উপর বিনিয়োগে আয়কর ক্রেডিট ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করারও পরামর্শ দিয়েছে ডিএসই।
উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হলে শেয়ার বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হবেন বলে মনে করছে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। এতে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
এদিকে বাজেট শেয়ার বাজারবান্ধব হবে কিনা এ নিয়ে বাজারে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ফলে বাজেটের আগ মুহূর্তে বিনিয়োগকারীরা খুব কম বিনিয়োগ করছেন। এতে ডিএসই ও সিএসইতে (চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ) লেনদেনের পরিমাণ তলানীতে চলে এসেছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮২ কোটি টাকা। যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। লেনদেন কমে যাওয়া প্রসঙ্গে ডিএসই’র এক কর্মকর্তা বলেন, বিনিয়োগকারীরা বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছেন। যদি বাজেট বিনিয়োগবান্ধব হয় তবে বিনিয়োগ বাড়বে। লেনদেন ভালো হবে। অন্যথায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাজেট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকার শেয়ার বাজারবান্ধব। তাই বাজেট শেয়ার বাজার প্রতিকূল হবে না। স্টক এক্সচেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর ধাপে ধাপে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন (স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা পৃথকীকরণ) সম্পন্ন করা হয়েছে। এ কারণে স্টক এক্সচেঞ্জের খরচ বেড়েছে। তাছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের ফলে নানা চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এ অবস্থায় বাজেট পুঁজি বাজারবান্ধব না হলে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ বিপাকে পড়ে যাবে। এ বিষয়গুলো চিন্তা করেই বাজেট প্রণয়ন করা প্রয়োজন।