লোকসভা নির্বাচন
অলক বিশ্বাস
ভারতে এবারের লোকসভা নির্বাচনেও বরাবরের মতোই বেশ ভালোভাবেই উতরে গেছেন তারকা প্রার্থীরা। ভারতের সাধারণ জনগণের কাছে ক্রিকেট তারকা এবং রূপালি জগতের তারকাদের যে একটা বাড়তি গুরুত্ব আছে সেই কথাটি বেশ ভালোভাবেই মাথায় রাখে বড় রাজনৈতিক দলগুলো। পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুন সেন বাদে নুসরাত জাহান, মিমি চক্রবর্তী, দেব, শতাব্দী রায়, বাবুল সুপ্রিয় সবাই বড় জয় পেয়েছেন। টলিউডের তারকা দেব আগেই লোকসভার সদস্য ছিলেন। তবে এবার তার সঙ্গী হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় দুই নায়িকা মিমি চক্রবর্তী ও নুসরাত জাহান। রাজনীতিতে কোনো রকম অভিজ্ঞতা না থাকলেও মমতা ব্যানার্জির বদৌলতে ভোটের মাঠে নেমে পড়েন নুসরাত আর মিমি। আর নির্বাচনে অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছেন হালের এই দুই সেনসেশন। তাদের বেলায় তাই অনেকেই বলছেন, এ যেন এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন।
বাংলাদেশের সাতক্ষীরা সীমান্ত লাগোয়া ভারতের বসিরহাট আসনটি মুসলিম অধ্যুষিত একটি আসন। আগে থেকেই আসনটি দখলে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। এ কারণেই হয়তো তিন লাখ ৫০ হাজার ৩৬৯ ভোটের ব্যবধানে জিতে রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছেন নুসরাত। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন সাত লাখ ৮২ হাজার ৭৮টি। নুসরাতের প্রতিপক্ষ বিজেপির সায়ন্তন ভোট পেয়েছেন চার লাখ ৩১ হাজার ৭০৯টি।
পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর লোকসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির অনুপম হাজরাকে এক লাখের বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এই আসন থেকে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন বলে নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন মিমি।
উজ্জ্বল অন্য তারকারাও: রূপালি জগত্ থেকে লোকসভায় আগেও সদস্য হয়েছেন দেব হিসেবে পরিচিত দীপক অধিকারী। জোড়া ফুল প্রতীকে দ্বিতীয়বারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য হয়েছেন ঘাটাল আসন থেকে। গত লোকসভায় আড়াই লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপির ভারতী ঘোষের সাথে তার ব্যবধান এক লাখ আট হাজার ভোট। জোড়াফুল প্রতীকে জিতেছেন অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। বিজেপি থেকে নির্বাচন করা বাবুল সুপ্রিয়ের কাছে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন। আসানসোল লোকসভার এই আসনটি ছিল দুই তারকার লড়াই। এই আসন থেকে বাবুল সুপ্রিয় ৫১.২ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে মুনমুনকে হারিয়েছেন।
অন্যদিকে বলিউড তারকাদের মধ্যে জয় পেয়েছেন বিজেপির সানি দেওল, হেমা মালিনী, স্মৃতি ইরানিরা। স্মৃতি হারিয়েছেন খোদ কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীকেই। পদ্মফুল প্রতীকে নির্বাচন করে অবশ্য পরাজিত হয়েছেন একসময়ের জনপ্রিয় তারকা জয়াপ্রদা। হারতে হয়েছে বিজেপি থেকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া শত্রুঘ্ন সিনহা ও তার স্ত্রী পুনম সিনহাকে। আর কংগ্রেস থেকে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হয়েছেন রাজ বাব্বর, ‘রঙ্গিলা’ তারকা উর্মিলা মাতন্ডকার।