চট্টগ্রামে মুরাদপুর উড়াল সেতুর দরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
প্রকাশ : ২৬ মে ২০১৪, ২৩:০৫
মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার উড়াল সেতু নির্মাণের দরপত্রে এবার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উড়াল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের পূর্বে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি বলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ, বুদ্ধিজীবী অভিযোগ তুলেছেন। তাছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে যে সব উড়াল সেতু নির্মাণ করেছে তা যানজট নিরসনের পরিবর্তে জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
গত ১৫ মে মুরাদপুর-লালখান বাজার উড়াল সেতুর দরপত্রের ফিন্যান্সিয়াল অফার খোলার ব্যাপারে প্রাক-যাচাইয়ে উত্তীর্ণ ‘সিম্পেলক্স-নাভানা জয়েন্ট ভেঞ্চার’ প্রতিষ্ঠান কিছু আপত্তি তুলেছে। সিম্পেলক্স-নাভানা যৌথভাবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রকল্প পরিচালকের নিকট গত ২৫ মে লেখা পত্রে তাদের অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ফিন্যান্সিয়াল অফার খোলার সময় একইসাথে দেয়া তাদের ডিস্কাউন্ট অফার খোলা হয়নি। এটি যথানিয়মে টেন্ডার খোলার পূর্বেই জমা দেয়া হয়েছে। পত্রে উড়াল সেতুর নিচের সড়ক নির্মাণের কাজ আলাদা এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু টেন্ডারে ওই সড়কের ড্রইং দেয়া হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়। সিম্পেলক্স-নাভানা জেবি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং নাভানার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী এনকিউইউ আলমগীর ‘ইত্তেফাক’কে জানান, টেন্ডারের এ সকল অনিয়মের বিষয়গুলো সিডিএ-কে জানানো হয়েছে। আমরা তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। অপরদিকে মুরাদপুর লালখান বাজার উড়াল সেতু প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, টেন্ডার খোলার পূর্বে উক্ত প্রতিষ্ঠান ডিসকাউন্ট অফার জমা দেয়নি। তাছাড়া সিঙ্গেল টেন্ডারের ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট অফার গ্রহণ করার নিয়ম নেই। তিনি বলেন, সড়ক নির্মাণের কাজ যথারীতি একই টেন্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে। গত রবিবার পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সিডিএ কর্তৃক জংশন এলাকায় অপর্যাপ্ত যানবাহন চলাচলের পরও উড়াল সেতু নির্মাণের কোন যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেছেন। কোন প্রকার সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই শুধুমাত্র চমক দেখানোর জন্য জনগণের অর্থ অপচয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।