আ লা প চা রি তা 

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

স্বনামধন্য লেখক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক। বাক স্বাধীনতা, মানবিক অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক আন্দোলনের পুরোধা। দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্য যাদের নিরলস অবদানে সমৃদ্ধ তিনি তাদের অন্যতম। তিনি মার্কসীয় চিন্তা-চেতনায় উদ্বুদ্ধ, গ্রগতিশীল ও মুক্তমনা। তিনি নতুন দিগন্ত পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ইত্তেফাকের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। জানাচ্ছেন— এস আর খান শিক্ষকতায় আসার কারণ আমাদের সময়ে পেশা বাছাইয়ের খুব একটা সুযোগ ছিলো না। আমার বাবা চাইতেন আমি সরকারি চাকরি করি কিন্তু আমার ইচ্ছা ছিল সাংবাদিক হওয়ার। শিক্ষকতায় আসার পেছনে মূলত আমার দুটি কারণ ছিল। প্রথম কারণ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে পারব দ্বিতীয়ত ঢাকায় থাকতে পারব। মূলত এই চিন্তা থেকেই শিক্ষকতায় আসা। আমার প্রিয় শিক্ষক আমার স্কুল জীবনের প্রিয় শিক্ষক ছিলেন গোষ্ঠ বিহারী মজুমদার। তিনি ছিলেন রাজশাহীর লোকনাথ স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি কখনো সরাসরি আমাদের ক্লাস নেননি। তবে তার শিক্ষকসুলভ আচরণ, ব্যক্তিত্ব, স্নেহপরায়নতা আমাকে খুব আকর্ষণ করত। সেন্ট গ্রেগরিস কলেজ বর্তমানে যা নটর ডেম কলেজ, তার ভাইস প্রিন্সিপাল ছিলেন ফাদার মার্টিন। তিনি আমাদের সাহিত্য পড়াতেন। তার সান্নিধ্য বিশেষ করে নাটকের সময় তার বলিষ্ঠতা আমাকে এখনো মুগ্ধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পেয়েছি জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতাকে। তিনি অত্যন্ত চমত্কার পড়াতেন এবং সব সময় আমাদেরকে লেখার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণীয় ঘটনা ১৯৫২ সাল। বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনো আমি ভর্তি হইনি। ২১ ফেব্রুয়ারিতে কলা ভবনের সামনে যে মিছিলটি বের হয় আমি সেই মিছিলে ছিলাম। হঠাত্ করেই পুলিশ আমাদের উপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে, এটি ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। তাই চোখের তীব্র জ্বালা নিয়ে বাসায় ফিরে আসি, এরপর যখন শুনি যে মিছিলে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ হয়েছে তখন আবার ক্যাম্পাসে ফিরে যাই। সেই সময় এবং এই সময় আমাদের সময়ে একটা ধারণা ছিলো যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হলেই একটা না একটা চাকরি জোগাড় করে ফেলা খুব কঠিন কিছু ছিলো না কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। শিক্ষার্থীদেরকে এখন পড়াশোনা শেষ করে তীব্র প্রতিযোগিতায় নামতে হয় যার ফলে পড়াশোনায় আগ্রহ এখন অনেক কমে গেছে। কোনমতে একটা সার্টিফিকেট জোগাড় করার জন্যই অনেকে এখন পড়াশোনা করে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বর্তমানে আমরা একটা দুঃসময়ের মধ্যে বাস করছি। অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। উন্নতি যা ঘটছে তা অবনতির আচ্ছাদনে ঢাকা। কেন এমনটা ঘটছে তা শিক্ষার্থীদেরকে বুঝতে হবে এবং তা পরিবর্তনে এগিয়ে আসতে হবে। পড়াশোনায় ভাল করার পাশাপাশি সমাজ বদলেও এগিয়ে আসতে হবে সমান ভাবে।