চ ট্ট গ্রা ম বি শ্ব বি দ্যা ল য়

ভালোলাগার একটি দিন

দিনটি ছিল সোমবার। সকাল সাড়ে ৭টা। ক্যাম্পাসে ভালোলাগার দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীর মত আমরা পাঁচ বন্ধু বেরিয়েছিলাম দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে। সে কারণে দু’সপ্তাহ আগে থেকেই নিয়েছিলাম প্রস্তুতি। আমার বন্ধুরা কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অনিক, অর্থনীতি বিভাগের তানিশা, তায়্যিবা ও তাসনুভা কিনেছিল লাল রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবী আর গহনা। এদের মধ্যে তাসনুভা নিয়মিত বোরকা পরলেও সেদিন সে বোরকা পরতে ছিল একেবারেই নারাজ। সময় স্বল্পতা ও অর্থ স্বল্পতার কারণে আমার ছিল না কোন পূর্বপ্রস্তুতি। আর তাই রোববার রাতে আমি বন্ধুদের আসবো না বললে তারা তা মানতে চায়নি। যাই হোক প্রস্তুতি নিয়ে আমরা বের হয়েছিলাম ঘুরতে। সকালে ঘুম থেকে উঠে সবাই একসাথে মিলি। তারপরে একসাথে সকালের নাস্তা সারলাম। এরপর শুরু হয় ঘোরাঘুরি। ঘোরাঘুরি শুরু হয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে। এরপর একে একে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ঝুপড়ি, কলা অনুষদ প্রাঙ্গণ, কলা অনুষদের ঝুপড়ি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যায়ের দর্শনীয় সবক’টি স্থান। দুপুরে খাওয়ার জন্য সবাই মিলিত হয় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হলের প্রাঙ্গণে। সেখানে বসে সবাই একসাথে খাওয়া-দাওয়া সেরে নেই। ঘোরার কথা বলা হলেও একটি কথা একদমই বলা হয়নি। তা হল বন্ধুদের ছবি তোলার হিড়িক। যেখানেই যাবে সেখানেই কয়েকটি ছবি। এদের মধ্যে তাইয়্যেবা আর তানিশা আবার শীর্ষে। একটি সুন্দর গাছ বা ঘাস দেখলেই তাদের ছবি তুলে দিতে বাধ্য করা হয় আমাদেরকে। আর এভাবে একদিনে দু’জনে প্রায় সহস াধিক ছবি তোলে। ছবি তুলতে তুলতে মোবাইলে চার্জ শেষ হয়ে গেলে কান্নাকাটি শুরু করে তারা দু’জন। পরে তাদের কান্না আর দুঃখ থামাতে আমরা ডাক দেই আমাদের আরেকটি বন্ধুকে। তার কাছে আরেকটি ক্যামেরা থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে গেল তানিশা আর তাইয়্যেবা। বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, সারাদিন একসাথে থাকা আর আনন্দময় আমেজের কারণে দিনটি আমাদের কাছে স্মরণীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে তিন বছরের জীবনে যে কয়েকটা দিন সবচেয়ে স্মৃতিময় ভালোলাগার এই দিনটি তার মধ্যে অন্যতম।