শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নিকোলাস কোপার্নিকাসের অনুসারী!

‘বিগ ব্যাং’-এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি। ষোড়শ শতকে এসে পৃথিবীর অবস্থান সম্পর্কে পোল্যান্ডে জন্ম নেয়া নিকোলাস কোপার্নিকাস সৌরকেন্দ্রিক সৌরজগতের মতবাদ নিয়ে আসেন সর্বসম্মুখে। তিনি বলেন- সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহগুলো ঘুরে। এভাবেই ‘জ্যোতির্বিদ্যা’ ধারণাটির প্রসার। রহস্যময় উন্মুক্ত আকাশে চোখ তুলে তাকালেই দেখা মেলে নানা আকারের তারকারাজির নানা আলোর বিচ্ছুরণ। আর এর মধ্যে থাকা রহস্যকে খুঁজতে প্রাণান্ত প্রচেষ্টার সাথে মহাশূন্যের রহস্যময়তা উন্মুক্ত করার প্রাণান্ত চেষ্ট করেছেন তিনি। ঠিক এমন উন্মত্ততায় রহস্যময়তার উন্মোচন নেশায় বুঁদ হওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণের শ্লোগান: ‘পারসুইঙ দ্যা ইনফিনিটি’। যারা কোপার্নিকাসকে স্মরণ-অনুসরণ-অধ্যয়নের মাধ্যমে উন্মোচিত করতে চান ‘জ্যোতির্বিদ্যা’র নতুন দ্বার। কেন এ যাত্রা? জানতে চাইলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সারোয়ার জাহান তালুকদার তন্ময় জানান, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো যখন মহাশূন্যে রকেট পাঠানোর কাজে ব্যস্ত তখন আমাদের বাচ্চারা চাঁদের বুড়ীর গল্প শুনে সন্তুষ্ট থাকে। এ থেকে পরিত্রাণের প্রত্যাশায় শিক্ষিত জাতি তৈরির চেষ্টায় রত থেকে যুক্তির প্রাধান্যতায় শিশু এবং তরুণদের মাঝে উত্সাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমেই ভবিষ্যতে দেশে কোপার্নিকাসের মতন বড় বড় বিজ্ঞানী বের হয়ে আসবেন বলে আশা তাঁর। জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে আগ্রহ এবং এ বিষয়ে মানুষকে জানানোর প্রত্যয় নিয়ে গ্রহ-নক্ষত্রপ্রেমীদের যাত্রা শুরু ২০১২ সালের ১৭ মে। যাত্রার পর থেকেই ইতিমধ্যে তাঁরা আয়োজন করেছে জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে পাঠচক্র, স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা, গ্রহ-নক্ষত্র বিষয়ক সভা, কর্মশালা, কার্নিভাল, টি-শার্ট, কোপার্নিকাসের জন্মদিন উদযাপনসহ নানা ব্যতিক্রমী সব আয়োজন। ভবিষ্যতে সম্মুখে এগিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু পরিকল্পনাও স্থির করে রেখেছেন তাঁরা। এর মধ্যে রয়েছে জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে সেমিনারের আয়োজন, সম্মেলনের আয়োজন, কলেজ পর্যায়ে প্রচারণা, জাতীয় পর্যায়ে অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা। এছাড়াও রয়েছে জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট তৈরি করা, বইমেলার আয়োজন করা এবং এ বিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন বের করা। এছাড়া সকলের কাছে সত্যকে উদ্ভাসিত করে জ্যোতির্বিদ্যাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়াও তাদের লক্ষ্য। তাদের কর্মকাণ্ড এবং অগ্রগতি নিয়ে বর্তমান সভাপতি সুদীপ্ত রায়ের মুখে শুনতে পাওয়া যায় আশাবাদ। তাঁর মতে- তাদের চেষ্টার পরিধি সর্বোচ্চ। যারা গ্রহ-নক্ষত্রপুঞ্জকে ভালোবাসে এবং রহস্যময়তাকে লোকচক্ষুর সম্মুখে উন্মোচিত করতে ইচ্ছুক তাদেরকে সচেতন করে তোলাই তাদের অন্যতম কাজ।