কু মি ল্লা বি শ্ব বি দ্যা ল য় ...............

আট বছর পেরিয়ে

বড় পাহাড় ছোট পাহাড়, সবুজে ঘেরা পাহাড়। চারপাশের যেদিকে দৃষ্টি যায় সেদিকই মায়াবী পাহাড়ের হাতছানি। পাহাড়গুলো গাছের সবুজ, হালকা অন্ধকারে ঢাকা আর পুরোটাই আলোর পরশ বুলানো। লালমাটির পাহাড়ের দৃঢ়তা এখানে আকাশের কোমলতাকে ছুঁয়ে যায়। বিশাল পাহাড়ি এলাকার নাম একটাই, লালমাই পাহাড়। এ পাহাড়ের পাদদেশে জ্ঞানের আলো নিয়ে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ২৮ মে, ২০১৪। ৮ম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। আট বছর পিছনে ফেলে নয় বছরে পা দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। দিবসটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের চোখে-মুখে এক ধরনের প্রাপ্তির ছাপ। বয়সে নবীন এ বিশ্ববিদ্যালয় ভৌগোলিকভাবে অনেক গুরুত্ব বহন করে। বর্তমান সময়ে সকল সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে তুলতে শিক্ষার মহত্ কাজ করছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। পাহাড়ের চূড়ায়, উপত্যকায় প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্পাসের আধুনিক ভবনগুলো শিক্ষার গর্বে সমাসীন। এখানে পাহাড়িয়া সবুজের মাঝে জ্ঞানের চাষ হয়। এখানে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অপ-সংস্কৃতি ও অপ-রাজনীতি করায় নিরুত্সাহিত করেন। সদ্য স্নাতকোত্তর শেষ করা ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী খোরশেদুল আলম বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে তার সর্বোচ্চটা দিয়েছে, আমিও এ শিক্ষা কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষকে আমার সর্বোচ্চ সেবা দিব, আমি আশাবাদী এখান থেকে জাতির জন্য গুণীজন তৈরি হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ব্যাচের ছাত্র হতে পারায় তিনি গর্ব বোধ করেন বলেও জানান। ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোতাহার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সমস্যার কথা বললেও কিছু আশার বাণী শুনালেন। তিনি বলেন, ‘পরিবেশগত দিক থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয় যেমন দেশের একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় তেমনি শিক্ষায়ও এটি দেশের মধ্যে স্বতন্ত্র হবে।’ একই ব্যাচের অপর শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা জানান- বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, পরিবহন ব্যবস্থা, আবাসিক ব্যবস্থা ও সর্বোপরি কাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবম বছর পদার্পণের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। নবীন বিশ্ববিদ্যালয় বলে এটা অস্বাভাবিক মনে করি না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি, বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে শিক্ষার্থীদের সুউচ্চ ও গবেষণাধর্মী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।’ এখানে সবসময় অবিরাম চলে তারুণ্যের প্রাণোচ্ছল জোয়ার। এখানেই যেন মিলিত হয়েছে আধুনিকতা আর প্রকৃতির মায়া। অনেক সিঁড়ি মাড়িয়ে সুউচ্চ ভবনে ওঠার মতো এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নও আকাশ ছুঁয়েছে। এ ক্যাম্পাসে সারাবছর আনন্দময় পরিবেশে জীবন কাটে শিক্ষার্থীদের।