প্রিয় মু খ মোহনীয় মেহেদী

ছোট ছেলেটি বিটিভির সামনে হা করে বসে থাকতো। কখন জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা হবে, তা দেখার জন্য। একা একা কথা বলত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। আর স্বপ্ন দেখতো কোন একদিন সেও ওই টিভির পর্দায় ভেসে উঠবে। ক্লাস এইটের মফস্বলের সেই ছেলেটি গতবছর প্রথমবারের মত সুযোগ পেলো জাতীয় পর্যায়ের একটি বিতর্কে অংশগ্রহণের এবং শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়ে চমকে দিলো সবাইকে। ছেলেটির চোখ চশমায় ঢাকা। চশমা খুলতেই আমাদের চোখে পড়ল তার শান্ত এক জোড়া চোখ। কিন্তু আমরা জানি, এই শান্ত চোখই ক্ষুরধার দৃষ্টি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের উপর। হ্যাঁ, ছেলেটি যোদ্ধা। কুপোকাত করেছে অনেক প্রতিপক্ষকে। শেষ বিকেলের আলোয় তার আনন্দিত মুখ দেখে ভালো লাগছিলো। লাজুক স্বরে আমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন তিনি। ক্যাম্পাসের একজন প্রিয় মুখ! নাম জিহাদ আল মেহেদী। পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। সম্প্রতি তার স্নাতক পরীক্ষা শেষ হল। বিতর্ক করেন অষ্টম শ্রেণী থেকেই। বাগেরহাটে তার বেড়ে ওঠা। স্কুল-কলেজের পাট চুকিয়েছেন সেখানেই। ব্যবসায়ী বাবা এবং সেবিকা মায়ের আদরে-শাসনে বেড়ে ওঠা জিহাদ যশোর বোর্ডে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন এবং বিতর্কেও একইভাবে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ছিনিয়ে এনেছেন বেশ কয়েকটি শিরোপা। বারোয়ারি বিতর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সেরা একজন বিতার্কিক হিসেবে নিজেকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শুধু তাই নয়, বিটিভিতে ২১তম জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার-আপ দল কবি জসীম উদ্দীন হলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। হয়েছেন টানা পাঁচ রাউন্ডেই শ্রেষ্ঠ বক্তা। জিহাদ আল মেহেদী মানেই যেন দল হারলেও শ্রেষ্ঠ বক্তা হবার রেকর্ড! গত ফেব্রুয়ারিতে ডি.এম.পি আয়োজিত ইয়ুথ ডিবেটে কার্নিভালে চ্যাম্পিয়ন ও শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়ে দলকে নিয়ে ঘুরে এলেন কক্সবাজার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিতর্কের প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।