আমার প্রিয় স্কুল

বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

আমার প্রিয় বিদ্যালয়ের নাম বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এটি ঢাকা জেলার প্রাণকেন্দ্র তেজগাঁও এলাকার ফার্মগেট-এ অবস্থিত। আমার প্রিয় বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৪৬ সালের ১লা জানুয়ারি। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার নাম জন মেলার বটমলী। তিনি বাংলার জনশিক্ষা পরিচালক ও ঢাকা জেলার প্রশাসক ছিলেন। ১৯৪৬ সালে ৫ জন শিক্ষক ও ২০/২৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ৩৬ আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬১০ জন। বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমের সংখ্যা ২৫টি। প্রতিটি ক্লাসের আলাদা শাখা রয়েছে। আমার বিদ্যালয়ে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রত্যেক ধর্মের জন্য আলাদা প্রার্থনা ঘর রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের ও অফিস রুমের জন্য একটি একতলা ভবন আর ক্লাসরুমের জন্য ১টি ২য় তলা ও ১টি ৩য় তলা ভবন রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য একটি বড় বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। বিদ্যালয়ে আছে একটি বিশাল বড় খেলার মাঠ। আর মাঠের চারপাশে বড় বড় গাছ। বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে বিশাল এক কৃষ্ণচূড়ার গাছ। এত বড় মাঠ ঢাকা শহরের স্কুলগুলোতে খুব একটা দেখা যায় না। মাঠের ও গাছের আকর্ষণে অনেকে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়। মাঠের উত্তর ও পশ্চিম পাশে সারিবদ্ধ ভাবে আছে ভবনগুলো। সব ক্লাস রুমের সামনে বারান্দা আছে। ভবনের দক্ষিণ পাশে স্কুল গেট। গেটের বাম পাশে রয়েছে জাতীয় শহীদ মিনার। প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি আমরা শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাসহ শহীদদের স্মরণে ফুল দিই। তার সাথে ভাষার মাস হিসেবে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়। প্রতিবছর মার্চ মাসের দিকে বিজ্ঞানমেলা হয়। শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিভিন্ন স্কুল থেকে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানমেলা দেখতে আসে। জানুয়ারি মাসের ২০/২৫ তারিখের দিকে বার্ষিক ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আমরা সকলে আনন্দের সাথে বিভিন্ন খেলায় অংশ গ্রহণ করি। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকা অভিভাবক অভিভাবিকাদের জন্যও খেলার আয়াজন থাকে। প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সকাল ৭.৪৫ মিনিটে আমাদের এ্যাসেম্বলী শুরু হয়। শেষ হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে সবাই ক্লাসে ঢুকি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করি। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি ছুটি হয় বেলা ১২টায় আর ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি ছুটি হয় বেলা ১টায়। স্কুলের পেছনে বড় বাগান আছে। সেই বাগানে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ রয়েছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে ১৪০ জন হোমের শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা বিদ্যালয়ের পাশে হোমের ভবনে থাকে। ওদের দেখা শোনার জন্য আলাদা লোক আছে। ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে হলদে পাখি’ আর ৭ম থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘গার্লস গাইড’ দল করা হয়। হলদে পাখিরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। গার্লস গাইডের আপুরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সাথে ক্যাম্পিং ও হাইকিং এ অংশ নেয়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিদ্যালয়ে আলাদা ল্যাইব্রেরি রয়েছে। আমার বিদ্যালয়ের সমাপনী জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল শতভাগ। শিক্ষিকরা অতি যত্নসহকারে আমাদের পাঠদান করেন। সব পরীক্ষার পর অভিভাবক ও শিক্ষকদের আলোচনা সভা বসে। এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার আপু আমার বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন। প্রতি বছর বসন্তবরণ ও বর্ষবরণের দিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে ফুল ও উপহার বিনিময় হয়। বসন্ত বরণের দিন দশম শ্রেণির আপুরা শাড়ি পরে। প্রতিবছর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা সফরে যান শিক্ষকরা। আমি আমার প্রিয় বিদ্যালয়কে খুব ভালোবাসি। সব সময় আমরা স্কুলের সব নিয়ম মেনে চলি। আমি আমার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বন্ধুদের শুভ কামনা করি।