কিশোরী জিনিয়ার স্বপ্নপথের গল্প
প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৪, ২০:১০
শৈশব থেকে কেবল কৈশর কাল চলছে জিনিয়ার। তবে সেই শৈশব থেকেই টিভিতে কারো নাম দেখলে থমকে যেতো। একই রকমভাবে নৃত্যেও মুদ্রার অনুসঙ্গে ভঙ্গিও চেষ্টা করতো সেই তরুণী। মেয়ের এই আগ্রহ দেখেই জিনিয়ার মা তাই মনস্থিও কওে নিয়েছেন সংস্কৃতিক মাধ্যমেই তার স্বপ্নের বিচরণ ঘটাবেন।
টিভি পর্দা বা রূপালি পর্দা, পর্দার ঐ মানুষগুলোকে স্বপ্নে মত মনে হয়। আর সেই স্বপ্নের মানুষগুলোর মাঝে নিজেকেও দেখতে চায় অনেকে। ছোটবেলা থেকেই টিভি নাটক বা সিনেমার প্রতি অনেক আগ্রহ জিনিয়া খানের। তবে সেই সময় মূখ ফুটে আর মা কে বলা হয়নি অভিনয় করার কথা। সুবর্না মুস্তফা ও জয়া আহাসান কে দেখে দেখে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহের মাত্রা আরও বেরে যেতে থাকে দিন দিন। নিজেকেও একদিন ঐ পর্দায় দেখার স্বাদ জাগে। ছোট মেয়ে তো আর ছোট থাকেনা। একসময় নিজের স্বপ্নের ডানা মেলে উড়ে যেতে ইচ্ছে হয়। তাই মায়ের কাছে আবদার করলো যে অভিনয় করবে। আর অদরের মেয়ের আবদার রাখতেও সে প্রস্তুত। নারায়নঞ্জের মেয়ে জিনিয়া অভিনয় সেখার জন্য ভর্তি হন ঢাকার ইস্কাটনের কাজী রাকায়তের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। সেখান থেকেই অভিনয়ের হাতেখড়ি। সেই সূত্রে মঞ্চের অভিজ্ঞতাটাও যোগ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে অভিনয়ের বিষয়টি বেশ আয়েত্বে নিয়ে আসে জিনিয়া। এক সময় স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে মাকে নিয়ে ঢাকায় পারি জমান কাজ ও পড়াশোনার সুবিধার জন্য। এরপর ডি এ তায়েবের ‘থানার নাম শনির আখড়া’ নাটকটি দিয়ে সেই পর্দায় কাজ করার সুযোগ মেলে তার। এরপর থেকে ছোট পর্দায় এখনও কাজ করে যাচ্ছেন। এই ঈদে বেশ কিছু কাজ করছেন জেরিন। এর মধ্যে একটি প্যাকেজ নাটক ‘ছায়া’ ও একটি টেলিফিল্ম। নিজের এই বয়সে অভিনয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে সমস্যা হয় কী না জানতে চাইলে জিনিয়া বলে,‘না , তা হবে কেন। কারণ আমি একটি সৃজনশীল কাজের সাথে জড়িত রয়েছি। তাই এখানে সেই ধরনের সমস্যা হবার কথা নয়।’
তবে অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনার সাথেও সম্পৃক্ত রয়েছে জিনিয়া। শোবিজের বিভিন্ন অঙ্গনে নিজেকে ছড়িয়ে দিতেই তাই কাজ করতে চান সবসময়।’ জিনিয়ার কথায়,‘এখন আসলে কেউই শুধু একটিকে ধরে এগোয় না। আমিও তাই উপস্থাপনা, অভিনয় আর প্রদর্শন-এর সাথে নিজেকে ওতোপ্রতভাবে সম্পৃক্ত আছি। ভালোমানের কাজ হলে সেটাতে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চাই।’
জিনিয়ার এই কৈশরেও মিডিয়ার অনেকেই অনেক রকম ভাবে স্বপ্ন দেখায়। এই ধরনের মানুষদের কিভাবে চেনেন তা জানতে চাইলে জিনিয়া বলেন,‘এসব মানুষকে চেনার ক্ষেত্রে একমাত্র মানুষ আমার মা। একারনেই আমি মায়ের আদেশ উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলি। অনেকেই প্রায় সময় বলে তোমাকে আমার ছায়াছবিতে অভিনয় করা সুযোগ দিবো। কিন্তু তার ক্যারিয়ার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখলে দেখা যায়, তিনি কিছুই করেননি।’
ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় যেতে চায় অনেকেই। সেই ইচ্ছা প্রবল ভাবে কাজ করে জিনিয়ার মাঝেও। তবে এখনই ঠিক না। নিজে আরও ভালো করে শিখে বড় পর্দায় নিজের পদচারণা ঘটাতে চায়। আর অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাটাও চালিয়ে যেতে চায়। আর নিজেকে শিক্ষার দিক থেকে যোগ্য করে তুলে আমাদের মিডিয়া জন্যই কিছু করার প্রয়াশ ব্যক্ত করে জিনিয়া।