মোদী যুগ :কেমন হবে পাক-ভারত সম্পর্ক

লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সোমবার শপথ গ্রহণ করলেন বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের অনেক দেশের ন্যায় শপথ অনুষ্ঠানে সেদিন উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফও। নতুন এ সরকার ক্ষমতায় আসায় কেমন হবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাক-ভারত সম্পর্ক। এ নিয়ে এখন অনেকেরই ভাবনা-চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। সমপ্রতি বিবিসিতে এ নিয়ে এক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে সেদেশে বেশ উত্তেজনা দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন শরীফ। তারও আগে দুইদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পাকিস্তান তাদের দেশে কারাবন্দী ১৫১ জেলেকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দেন। তবে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে যে পন্থাই নেয়া হোক না কেন বিজেপির জয়ে খুশি নয় ইসলামাবাদ। কেননা পাকিস্তানের তরফ থেকে মনে করা হয়, কট্টর হিন্দুবাদী বিজয়ী এ দলটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট। দলটি শুধু হিন্দুদের জীবনমান নিয়েই কাজ করে। কাশ্মীরের মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি তারা ঘোরবিরোধী। শুধু কাশ্মীর নিয়ে এ পর্যন্ত তাদের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে। এছাড়া ১৯৯২ সালে আরএসএসের দাঙ্গার কথা বলা যায়। সে সময়ে এর পরিণতিতে অযোধ্যায় ১৬ শতকের বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়। অন্যদিকে ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার প্রসঙ্গও এসে যায়। তখন ওই দাঙ্গায় ১ হাজারেরও বেশি লোক মারা যায়, যার অধিকাংশই মুসলিম। এ সকল বাস্তবতায় মোদীর সময়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে চিন্তা-ভাবনা এসে যায়। রাওয়ালপিন্ডির এক বই বিক্রেতা আবিদ হুসাইন তার সাদামাটা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, মোদী এখন বাবরি মসজিদের পাশে রাম মন্দির নির্মাণের চেষ্টা করবেন। সেই সঙ্গে তিনি ‘কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা’ বাতিলের ব্যবস্থা করবেন। ভারতে আবারো মুসলমানদের রক্ত ঝরবে।