ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের নতুন মোড়

এক দিকে দ্রাবিড়-বলয়ের রাজনৈতিক বিক্ষোভ। অন্য দিকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মহিন্দা রাজাপাকসের লাল কার্পেটের উপর দিয়ে হাসিমুখে হেঁটে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রবেশের ছবি। এই বৈপরীত্যের মধ্যেই ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কের নতুন যাত্রা শুরু হলো বলে মনে করছে কূটনৈতিক শিবির। গত দশ বছরে একটি বারের জন্যও শ্রীলঙ্কা সফরে যাননি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। রাজনৈতিক সূত্রের মতে, সোনিয়া গান্ধী তথা কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব দক্ষিণ ভারতের তামিল আবেগের কাছে নতজানু হয়েছেন। তা-ই এই সফরে অনীহা দেখিয়েছে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়। তামিল রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে জাতিসংঘেও রাজাপাকসে সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে ভারত। এই সুযোগে চীন শ্রীলঙ্কার ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সে দেশে বন্দর, নৌ-ঘাঁটি এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো চীন তৈরি করছে, তা জানা সত্ত্বেও কিছু করে উঠতে পারেনি মনমোহনের সরকার। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যের প্রশ্নে শ্রীলঙ্কাকে পাশে নিয়েই তিনি এগোতে চান। ভারতীয় তামিল জেলেদের শ্রীলঙ্কার জেল থেকে মুক্তি দিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন রাজাপাকসেও। রাজাপাকসেকে আমন্ত্রণ করা নিয়ে তামিল দলগুলোর প্রতিবাদ চরমে পৌঁছেছে। বিক্ষোভের জেরে আটক করা হয়েছে এনডিএ-রই শরিক দল এমডিএমকে-র নেতা ভাইকোকে। এই একই কারণে মোদীর শপথ বয়কট করেছে এডিএমকে নেত্রী জয়ললিতা। নিমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও আসেননি রজনীকান্ত (যদিও ৬৩ বছর বয়সি এই অভিনেতা জানিয়েছেন, তিনি একটি ছবির সুটিংয়ে ব্যস্ত) তামিলনাড়ুর বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ হয়েছে। জঙ্গি সংগঠন এলটিটিই-র সঙ্গে লড়াইয়ের সময়ে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী তামিলদের গণহত্যা করেছে বলে দাবি তামিলনাড়ুর দলগুলোর। রাজাপাকসে যুদ্ধাপরাধী বলেও দাবি তাদের। এই বিষয়ে বরাবরই শ্রীলঙ্কার তামিলদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জয়ললিতা-ভাইকোরা। তবে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে হাত মেলানোর নীতি নিয়েই এগোচ্ছেন মোদী।—আনন্দবাজার পত্রিকা