তিস্তার পানি ও ছিটমহল সমস্যা নিরসনে আশ্বাস
প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৪, ২৩:১৪
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান অমীমাংসিত ইস্যুগুলো বিশেষ করে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর ও সীমান্ত চুক্তি ছিটমহল বিনিময় বাস্তবায়নের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে দুই দেশের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, গতকাল ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। বৈঠকটি প্রায় আধা-ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে মোদী অত্যন্ত আগ্রহী। দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর ও সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে ভারতের নতুন সরকার।
বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী ভারতের নিরাপত্তা, বিদ্যুত্, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, রেল ও সড়ক পরিবহনসহ সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুদ্র ঋণের মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন মোদী।
অন্যদিকে বৈঠক শেষে ড. শিরীন শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। জাতীয় অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে তিস্তার পানি চুক্তি ও ছিটমহল বিনিময় চুক্তির বিষয় রয়েছে। নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, তিনি বিষয়গুলোতে নজর দেবেন। তাকে ইতিবাচক মনে হয়েছে। বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা জানিয়ে দেয়া চিঠি মোদিকে হস্তান্তর করেন শিরীন শারমিন। এতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মোদীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিনন্দন বার্তায় দুই দেশের সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শেখ হাসিনা জাপান সফরে থাকায় তার প্রতিনিধি হিসেবে মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন শিরীন শারমিন। ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে এটিই প্রথম বৈঠক। শিরীন শারমিন ছাড়াও গতকাল সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী।
বৈঠকে শিরীন শারমিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চমত্কার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ভারতের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে কিনা সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ড. শিরীন শারমিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো আগামী দিনগুলোতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো গভীর হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, মোদি সরকার নিরঙ্কুুশ বিজয় অর্জন করে ক্ষমতায় এসেছে। কাজেই বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তার সরকারের জন্য আরো সহজ হবে। বৈঠককালে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক করিম ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির মুখে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। অন্যদিকে, দুই দেশের অভ্যন্তরে থাকা অপদখলীয় জমি হস্তান্তর ও ছিট মহল বিনিময় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু পার্লামেন্টে তত্কালীন বিরোধীদল বিজেপিসহ আরো কয়েকটি দলের বিরোধিতার কারণে চুক্তিটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।