খালেদা জিয়া যেদিন চাইবেন সেদিনই ঢাকায় সমাবেশ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়া যেদিন চাইবেন সেদিনই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার রাস্তায় সমাবেশ করা হবে। কারো সাধ্য নেই সেই সমাবেশ বন্ধ করার। গণতন্ত্রের দরজা বন্ধ না করতে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে তারা বলেছিলো সংবিধান রক্ষার জন্য একটি নির্বাচন করছে। দ্রুতই সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন করা হবে। সরকার এখন বলছে, পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে। বললেই কি ক্ষমতায় থাকা যায়। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ‘শহীদ জিয়া-বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ড্যাব মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ডা. মিজানুর রহমান, ডা. এমএ মান্নান মিয়া, ডা. খলিলুর রহমান, ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, ডা. রফিকুল কবীর প্রমুখ। ফখরুল বলেন, অহমিকা নিয়ে কথা বলবেন না। সরকারকে কিভাবে মোকাবিলা করতে হয় তা বাংলার মানুষ জানে। বন্দুক নিয়ে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবেন না। স্বৈরাচারী করে হিটলার, ফেরাউন, আইয়ুব, এরশাদ কেউই টিকতে পারেনি, আপনারাও পারবেন না। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে প্রেসক্লাবের বাইরে নিয়ে যেতে চাই। খালেদা জিয়া আন্দোলনের ডাক দেবেন। রমজানের পর টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত গণতন্ত্রের উত্সব করতে চাই। এদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় গতকাল বিকালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পুস্তক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন গড়ে তুলতে জ্ঞানের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বই হবে প্রধান সহায়ক। তিনি বলেন, এ স্বঘোষিত সরকার যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই মানুষের মুক্ত চিন্তায় হস্তক্ষেপ করে। গণমাধ্যম বন্ধ করে সম্পাদকদের জেলে বন্দী করে। ভিন্নমত পোষণকারী বই ও প্রকাশনা বন্ধ করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এমাজউদ্দিন আহমদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশক জহুরুল ইসলাম।