ডাবিংয়ের ফাঁকে পপি
প্রকাশ : ২৮ মে ২০১৪, ১৯:৫৫
নতুন বছরের প্রায় পাঁচ মাস চলে যাচ্ছে। এ বছরে পপি অভিনীত কোনো ছবি মুক্তি না পেলেও তিনি যেসব পরিচালকের ছবিতে অভিনয় করেছেন তারা চেষ্টা করছেন ছবিগুলো মুক্তি দেওয়ার। গত সপ্তাহে পপি শেষ করেছেন জাকির খান পরিচালিত ‘চার অক্ষরের ভালোবাসা’ ছবির ডাবিং-এর কাজ। ডাবিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় তার সাথে। লিখেছেন সাবিহা সুলতানা জেমি
‘আপনি পদ্মা সিনেমা হলে আগে আসবেন। তারপর সেই হল ঘেষে একটি সরু গলি ভেতরের দিকে চলে গেছে, এখানে এসে আমাকে একটা কল দিলেই চলবে’, পপিকে সহজে খুঁজে পাওয়ার এমনই একটি দিকনির্দেশনা দিলেন তিনি নিজেই। নির্দেশনা অনুযায়ী খুব কাছাকাছি গিয়ে ফোন দিতেই এক ছেলে কণ্ঠ বলে উঠলেন, ‘জ্বি আপনি একটু পিছনে তাকান।’ তাকাতেই দেখি পপির ছোট ভাই। তিনিই আমাকে নিয়ে গেলেন পপির কাছে। ডাবিং রুমে প্রবেশ করতেই ইশারা দিয়ে পপি শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন। কিছুক্ষণ বসার পর ডাবিংয়ের মাঝখানেই কিছুটা সময়ের জন্য বিরতি নিয়ে পপি আমার সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠলেন। পপি নিজে থেকেই জানালেন ‘চার অক্ষরের ভালোবাসা’ ছবিটি নিয়ে তিনি বেশি আশাবাদী। প্রশ্ন রাখি কেন? জবাবে পপি বলেন, ‘বুঝতেই পারছেন ছবিটির গল্প ভালোবাসাকে ঘিরে। তাই নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে নতুন করে বলতে ইচ্ছে করছে অন্যকিছু। আর সেটা হচ্ছে এই ছবিতে আমাকে নতুনভাবে দেখা যাবে। ফেরদৌস, নিরবসহ যারাই অভিনয় করেছেন প্রত্যেকেই অসাধারণ অভিনয় করেছেন।’ দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল তখন। পপি তখনও মধ্যাহ্ন ভোজ করেননি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, ‘আগে কাজটা শেষ করি। তারপর সবাই মিলে একসঙ্গে খাব।’ পপি আবার ডাবিং করছেন। ডাবিংয়ের সময় একজন শিল্পীকে অভিনয় করার সময় যতটা সিরিয়াস হতে হয় তারচেয়েও অধিক সিরিয়াস হতে হয়। ‘চার অক্ষরের ভালোবাসা’ ছবির পরিচালক জানান ছবিটি ঈদে কিংবা ঈদের পরপরই মুক্তি দেওয়া হবে। আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রে পপির সমকক্ষ যারা আছেন তারা কেউই এখন পর্যন্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে হ্যাট্রিক করতে পারেননি। পপি তা পেরেছেন। কেমন উপভোগ করেন বিষয়টি? পপি বলেন, ‘আমি তো এখানেই বন্দী। যা তা ছবিতে কাজ করতে পারি না নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই। কারণ আমি ভালো ভালো ছবিতে অভিনয় করেছি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি একবার নয় তিনবার। সেই আমিই যদি মানহীন ছবিতে অভিনয় করি দর্শক কী ভাববেন! তাই অনেক ছবিতে কাজ করা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিই। আমি দর্শকের কাছে আমার অবস্থানকে ছোট করতে পারব না।’ আসছে ঈদে নিশ্চয়ই ছোটপর্দায় দেখা যাবে আপনাকে? ‘না, খুব বেশি আগ্রহ নেই। কারণ এখানেও ছলচাতুরীতে ভরা। যেমন গত বছর ঈদে পরিচালক কায়সার আহমেদ আমাকে একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করিয়েছিলেন মিলনের বিপরীতে। পরে জানতে পারলাম একুশে টিভিতে তা ধারাবাহিক নাটক হিসেবে প্রচার হয়েছিল। একজন পরিচালক যদি শিল্পীর সঙ্গে এভাবে বেঈমানি করেন সেটা কি করে মেনে নেওয়া যায়? তাই ছোটপর্দায় কাজ করার ভরসা পাই না।’ পপির জীবনের সেরা অর্জন হিসেবে তিনি বিবেচনা করেন প্রয়াত বরেণ্য অভিনেতা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় ‘দড়িয়া পাড়ের দৌলতী’ ছবিতে কাজ করতে পারা। আর আজীবন যে কষ্ট বয়ে বেড়াবেন তা হলো অমর নায়ক সালমান শাহর সঙ্গে ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েও তারসাথে অভিনয় করতে না পারা। পপির জানা-অজানা কষ্টগুলো দূর হোক—এই শুভ কামনা।